তথ্যসূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
- গ্রন্থনা: হুমায়রা মাহজাবিন
- তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
- বিশেষজ্ঞ মতামত: ডা. শ্রীধর ভি (জ্যেষ্ঠ পরামর্শক, সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, অ্যাপোলো হাসপাতাল, বেঙ্গালুরু) ও প্রাচী চন্দ্র (প্রধান ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ, সাকরা ওয়ার্ল্ড হাসপাতাল, বেঙ্গালুরু)
শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা যদি নিয়মিত খাবারের মাধ্যমে পূরণ না হয়, তবেই কেবল সাপ্লিমেন্টের কথা বিবেচনা করা হয়। তবে এই প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ, নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস, গর্ভাবস্থা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় শরীরে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হতে পারে। ডা. শ্রীধর ভি-এর মতে, অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময়েও শরীরে বাড়তি পুষ্টির ঘাটতি থাকতে পারে, যা পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, ক্যানসার বা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির পরবর্তী সময়ে পুষ্টির ঘাটতি মেটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিম সেদ্ধ করে যে সময়ের মধ্যে না খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
বাজারে বর্তমানে কেবল ট্যাবলেট নয়, বরং গামি, ওয়েলনেস শট, কোলাজেন ড্রিংক, প্রোটিন পাউডার, পানিতে গুলিয়ে খাওয়ার ফর্মুলা এমনকি ত্বকে ব্যবহারের প্যাচও পাওয়া যাচ্ছে। প্রাচী চন্দ্রের মতে, সাপ্লিমেন্টের ধরন বা স্বাদ নয়, বরং এতে থাকা পুষ্টি উপাদানের পরিমাণই আসল। শিশুদের ক্ষেত্রে সিরাপের চেয়ে গামি অনেক সময় সহজ বিকল্প হতে পারে। তবে দেখতে আকর্ষণীয় বা খেতে সহজ হলেই যে তা বেশি কার্যকর হবে, বিষয়টি এমন নয়। তবে এর পেছনে কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম।
ডা. শ্রীধর ভি সতর্ক করে বলেন, সাপ্লিমেন্টের গায়ে উপাদানের যে তালিকা থাকে, শরীর তার কতটা শোষণ করতে পারছে সেটিই আসল বিবেচ্য। শুধু প্যাকেটের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাপ্লিমেন্ট বেছে নেওয়া ঠিক নয়। পুষ্টির গুরুতর ঘাটতি পূরণে সাপ্লিমেন্ট ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সুষম খাবারের কোনো বিকল্প নেই। দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে প্রাকৃতিক ও সুষম খাবারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচী চন্দ্র পরামর্শ দেন, আয়রন ও আয়োডিনযুক্ত লবণ কিংবা ভিটামিনসমৃদ্ধ তেল ও দুধের মতো ফর্টিফায়েড খাবার গ্রহণ করে খুব সহজেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরে সরবরাহ করা সম্ভব।
সাপ্লিমেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি। প্রথমত, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অন্য কোনো নিয়মিত ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে এই নতুন সাপ্লিমেন্টের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়া আছে কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক। বাজারে নানা ধরনের পণ্য থাকলেও সব পণ্যের কার্যকারিতার দাবি সমানভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাই শুধু চটকদার প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে পণ্যের উপাদানের লেবেল সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নমিনি নির্বাচনের আগে যা জানা জরুরি।

