রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ‘কিংফিশার’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৩৫৯ লিটার মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল। রোববার মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁটির প্রদর্শনী এলাকা ও সাধারণ গুদামের পাশাপাশি একটি বিলবোর্ডের পেছনে লুকানো গোপন কক্ষের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। ওই কক্ষ থেকেই বিপুল পরিমাণ অনিবন্ধিত বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। তিনি জানান, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বিশেষ করে মদ ও মদজাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রির গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল পণ্যের বৈধ উৎস যাচাই, ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা এবং অর্থ পাচারের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া।
কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮২৬ লিটার মদ এবং দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্র্যান্ডগুলোর তালিকায় রয়েছে শিভাস রিগ্যাল, ব্ল্যাক লেবেল, রেড লেবেল, জ্যাক ড্যানিয়েলস, গোল্ড লেবেল, গর্ডনস জিন ও অ্যাবসলিউট ভদকা। এ ছাড়া হান্টার ও হাইনেকেনসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় বিয়ার ব্র্যান্ডও রয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জব্দ পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৯১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা হলেও, প্রযোজ্য শুল্ক ও করসহ এগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
রেজভী আহম্মেদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি মদ আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নয় এবং অভিযানের সময় তারা মদ ও বিয়ার কেনাবেচার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অভিযানের সময় পোষা প্রাণী ব্যবহার করে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা এবং গোপন কক্ষের দরজার চাবি না দিয়ে অসহযোগিতার মতো ঘটনা ঘটলেও সরাসরি কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। ফলে সেসময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালকের তথ্য এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিআরের এই অভিযানে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১) সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন। এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম খান জানান, সরকারি সংস্থার সদস্যদের সুরক্ষার জন্যই তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, এখন পর্যন্ত গুলশান থানায় এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

