জাতীয় চার্চ পরিষদ বাংলাদেশের (এনসিসিবি) প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউতে ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব বাংলাদেশ (সিবিসিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মের নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত দেশি-বিদেশি অতিথিরা অংশ নেন। ১৯৫১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে গত সাড়ে সাত দশকে ত্রাণ সহায়তা, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের এক অভিন্ন ভূখণ্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ সব ধর্মাবলম্বী মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম ও উৎসব ব্যক্তিগত হলেও রাষ্ট্র আমাদের সবার। সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকারের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, রাষ্ট্র সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করছে। সব সমস্যা লিখিত ও মৌখিকভাবে সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়মিত উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি মানুষকে সমমর্যাদার নাগরিক হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এনসিসিবির সভাপতি স্যামুয়েল সুনীল মানখিন বলেন, শান্তি, ন্যায্যতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই জাতীয় চার্চ পরিষদের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, যুক্তরাষ্ট্রের ওমনিয়া ইনস্টিটিউট ফর কনটেক্সচুয়াল লিডারশিপের সভাপতি রেভারেন্ড শান্তা প্রেমাবর্ধনা, প্রেসবিটেরিয়ান চার্চের (যুক্তরাষ্ট্র) কর্মকর্তা রেভারেন্ড ক্যাথরিন সুজান চ্যাং, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি জন গমেজ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডেভিড অনিরুদ্ধ দাশ উপস্থিত ছিলেন।

