জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো আশরাফুলকে

বিদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ভরাডুবি এবং ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে অপসারিত হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। শনিবার দুপুরে মিরপুরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলনের পরেই বিসিবি তাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করা আশরাফুলের অধীনে দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আশানুরূপ ছিল না। ঝড়টা গেল মোহাম্মদ আশরাফুলের ওপর দিয়েই। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিয়োগ পাওয়া আশরাফুলকে এই সময়ে দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বোর্ড। শনিবার দলের সঙ্গে অনুশীলনে আশরাফুল বেশ হাসিখুশি মেজাজেই ছিলেন। তবে আশরাফুলের বিদায়ের কারণ লুকিয়ে আছে সাম্প্রতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ফলাফলে। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এই প্রথম কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হলো বাংলাদেশকে। আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে, যার আর এক বছরের মতো বাকি।

আবুধাবির ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল প্রকট।

সেখানে দুই ম্যাচের কোনোটিতেই দল পুরো ৫০ ওভার টিকতে পারেনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ হেরেছিল ৯৯ রানে। পরবর্তী ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও চিত্রটি ছিল অভিন্ন, যেখানে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানেই থেমে যায় ইনিংস। শেষ ছয়টি ওয়ানডের মধ্যে পাঁচটিতেই হারের স্বাদ পেতে হয়েছে দলকে। এর আগে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১৩ ওভারে মাত্র ১১১ রান করে বাংলাদেশ, যেখানে ছয় ওভারের মধ্যেই পড়ে গিয়েছিল চার উইকেট। এরপর ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ১৬৫ রানের জবাবে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় দল, হারতে হয় ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। হার এসেছে বড় ব্যবধানে, তাও আবার জিম্বাবুয়ে আর আফগানিস্তানের কাছে। মার্চে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়েছে দল। জয়ের হার প্রায় ৬৩ শতাংশ। ছয় ওভারের মধ্যেই পড়ে গিয়েছিল চার উইকেট, রান তখন ৪৫। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের ছবিটা আরও খারাপ।

বোর্ডের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে আশরাফুলের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিসিবি তাকে দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং বোর্ডের অন্য কোনো দায়িত্বে তাকে রাখার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। নিজের বিদায়ের বিষয়ে আশরাফুল গণমাধ্যমকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি এখন জাতীয় দলের সঙ্গে নেই এবং পরবর্তী দায়িত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন। নিজের বিদায়ের খবর শুনে আশরাফুল খুব যে অবাক হয়েছেন তাও কিন্তু নয়।

আশরাফুলের জায়গায় আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। নতুন স্থায়ী ব্যাটিং কোচ হিসেবে বিদেশি কাউকে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের, যে বিষয়ে বর্তমানে টিম অপারেশন্স বিভাগ বিভিন্ন কোচের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ হবে সালাহউদ্দিনের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ। পরে আলোচনার পর পদত্যাগ প্রত্যাহার করেন সালাহউদ্দিন, আর বোর্ড জানায়, দুজনই থাকছেন।

উল্লেখ্য, আশরাফুলের মেয়াদকাল পুরোপুরি ব্যর্থতায় কাটেনি। তার অধীনে আটটি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ ড্র করার কৃতিত্বও রয়েছে এই সময়ে। ডারউইনে প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান তোলা ছিল দারুণ এক ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সেই টেস্টে তানজিদ হাসান ১০১ রানের ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন, যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ২২৮ রানের লিড নিয়ে নয় উইকেটের জয়, শেষ পর্যন্ত সিরিজ ১-১ ড্র।

তবে সাদা বলের ক্রিকেটে বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত আশরাফুলের বিদায়ের পথ প্রশস্ত করল। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ম্যাচ শেষে বারবার দলের মানসিকতার সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কোচ পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপ আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। সালাহউদ্দিন বা নতুন কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে কতটা পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শান্ত করেছেন ৮৪, মিরাজ ৬৫।