বারির বাসায় যেভাবে দিন কাটছে কিংবদন্তী অভিনেত্রী শবনমের

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেত্রী শবনম বর্তমানে রাজধানীর বারিধারার পার্ক রোডের নিজ বাসভবনে অবসরে সময় কাটাচ্ছেন। স্বামী প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষের মৃত্যুর পর তিনি নিজেকে অনেকটা গৃহবন্দী করে নিয়েছেন। এখন আর আগের মতো খুব একটা বাইরে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তিনি। বরং নিজের ঘরোয়া পরিবেশেই কাটছে তাঁর দিনলিপি।

দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে শবনম জানান, অবসর সময়ে তিনি নিয়মিত টেলিভিশন দেখেন, পত্রিকা পড়েন এবং ফেসবুকের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের খবরাখবর রাখেন। মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ রক্ষা করা কিংবা দেশের বাইরে ঘুরে আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে তাঁর কর্মব্যস্ততা। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আপাতত নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয়ের সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম জানান, নিয়মিত টিভি দেখা, পত্রিকা পড়া, ফেসবুক স্ক্রল করা, মাঝে মাঝে বিভিন্ন আমন্ত্রণে যোগ দেওয়া কিংবা দেশের বাইরে ঘুরে আসার মধ্য দিয়েই দিন কেটে যাচ্ছে তাঁর। অনেকের ধারণা ছিল, হয়তো দেশেই একাকী জীবন কাটাতে হবে শবনমকে।

এক সময়ের জনপ্রিয় এই তারকার জীবনের বড় অবলম্বন এখন তাঁর একমাত্র ছেলে রনি। ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে দেশের বাইরে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকলেও রনি তা ছেড়ে মায়ের পাশে থেকে গেছেন। সন্তানকে নিয়ে গর্বিত শবনম বলেন, বর্তমান সময়ে মা-বাবাদের নিয়ে যেসব দুঃখজনক ঘটনা শোনা যায়, সে তুলনায় আমার রনি সোনার টুকরো। সে আমাকে কোনো কষ্ট করতে দেয় না এবং মায়ের প্রতি তার অগাধ টান রয়েছে। ছেলের দেখভাল ও সান্নিধ্যকে তিনি নিজের পরম সৌভাগ্য বলে মনে করেন। ছেলেকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শবনম বলেন, ‘একজন মা হিসেবে রনিকে নিয়ে আমি গর্বিত।

উল্লেখ্য, শবনম অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’। এদিকে চলতি বছর তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিজের আদরের ছেলের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।