টরন্টোয় ৪০তম ফোবানা সম্মেলন শেষ: শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক

কানাডার টরন্টোয় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা সম্মেলন। ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, দেশ-বিদেশের শিল্পী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। বাংলাদেশি সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। তবে সম্মেলনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও নেতৃত্বের সংকট।

টরন্টো সম্মেলনের প্রথম দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় ডন ভ্যালি হোটেল অ্যান্ড সুইটসে। নিউইয়র্কে আয়োজিত প্রাক-সম্মেলন সংবাদ সম্মেলনে টরন্টো সম্মেলনের কনভেনর হিসেবে দেওয়ান আজিম ও খোকন রহমান এবং মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে জহুরুল ইসলাম ও জাহিদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। অথচ, এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে ফোবানার কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংগঠনের ঘোষিত নির্বাহী কমিটি অনুযায়ী, গিয়াস আহমেদ চেয়ারম্যান, ফিরোজ আহমেদ এক্সিকিউটিভ মেম্বার সেক্রেটারি এবং কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৪০তম বর্ষের মতো একটি প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে এই তিন শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও হোস্ট কমিটির মধ্যকার সমন্বয়হীনতার চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে। কমিউনিটির একাংশের প্রশ্ন, যে সম্মেলনকে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম’ বা ‘সেরা ফোবানা’ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

ফোবানার এই সংকটের গভীরতা আরও বেড়েছে একই সময়ে চার শহরে পৃথক সম্মেলনের আয়োজনে। এবার লেবার ডে উইকেন্ডে টরন্টোর পাশাপাশি নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অরল্যান্ডো—এই চার শহরেই পৃথকভাবে ‘৪০তম ফোবানা’ পালিত হয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশিদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনা, নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের পারস্পরিক যোগাযোগ শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে ফোবানার যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু চার দশকের পুরোনো এই সংগঠনটি এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, প্রভাব বিস্তার এবং ‘কে আসল ফোবানা’—এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমানে ফোবানার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল দর্শক সমাগম বা তারকা শিল্পীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা নয়। বরং প্রশ্ন উঠেছে, উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশিদের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি যদি একই সপ্তাহান্তে চার শহরে চারটি পৃথক সম্মেলন আয়োজন করে, তবে আগামী প্রজন্মের কাছে ফোবানার প্রকৃত পরিচয় কী হবে? সংগঠনের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন ফোবানা এবং ‘টেস্ট অব বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে ড্যানফোর্থ রোড ও বার্চমাউন্ট রোড এলাকায় বড় আকারের উন্মুক্ত বাংলাদেশি মেলার আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে খাবার, পোশাক, গয়না ও দেশীয় পণ্যের স্টলের পাশাপাশি সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আয়োজক সংগঠন ছিল বাংলাদেশ সোসাইটি অব কানাডা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবু জুবায়ের দারা, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ফিরোজ আহমেদ, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি শাহাব উদ্দিন সাগর এবং স্থানীয় আয়োজকদের নাম সামনে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্মেলনের প্রথম দিন বাংলাদেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের মধ্যে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আখতার ববিতা, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, সাবেক ফুটবলার এনায়েতুর রহমান এবং অভিনেত্রী শান্তা ইসলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন সেলিম চৌধুরী ও আঁখি আলমগীরসহ বাংলাদেশ ও টরন্টোর স্থানীয় শিল্পীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমাপনী দিনে মঞ্চ মাতান ডলি সায়ন্তনী, ফকির সাহাবুদ্দিন ও শাহনাজ বেলী, রানো নেওয়াজ, অনিক রাজ প্রমুখ।