ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই ফরম্যাট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ২৭.৭১ গড়ে ২২৯ উইকেট শিকার করেছেন শামি, যার মধ্যে রয়েছে ছয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার অনন্য রেকর্ড। ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল তার শেষ টেস্ট ম্যাচ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শামি লেখেন, “ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি সঙ্গী করে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। প্রতিটি সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং কোটি কোটি ভারতবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যারা এই দীর্ঘ যাত্রায় আমাকে সমর্থন যুগিয়েছেন এবং ভালো-মন্দের সব সময়ে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।”
১৩ বছর আগে এই দিনেই ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। কাকতালীয়ভাবে সেই একই দিনে তিনি সাদা পোশাকে বিদায় জানালেন। অভিষেকেই ১১৮ রানে ৯ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই ডানহাতি পেসার। বিশেষ করে উপমহাদেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তার রিভার্স সুইং ভারতের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। তার ক্যারিয়ারের ছয়টি পাঁচ উইকেটের মধ্যে চারটিই এসেছে এই দুই দেশে।
ইনজুরি শামির ক্যারিয়ারে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর গোড়ালির অস্ত্রোপচার ও হাঁটুর সমস্যায় দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। তবে প্রতিটি বাধা পেরিয়ে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের নজিরও গড়েছেন তিনি। সবশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মাধ্যমে মাঠে ফেরেন এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলেও ডাক পেয়েছিলেন।
জাতীয় দলের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় রয়েছেন শামি। চলতি মৌসুমে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফির তিনটি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন এবং সৈয়দ মুশতাক আলী টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও জায়গা পেয়েছেন। ২২৯ উইকেট নিয়ে টেস্ট ফরম্যাটে ভারতের ১২তম সর্বোচ্চ এবং পেসারদের মধ্যে ৬ষ্ঠ উইকেট শিকারি হিসেবে নিজের গৌরবময় অধ্যায়ের ইতি টানলেন তিনি।
অবসরের বার্তায় শামি আরও বলেন, “আমি সাদা কিট থেকে বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো নয়। যখন প্রথম ভারতের টেস্ট জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলাম, তখন একটাই স্বপ্ন ছিল—দেশের জন্য কিছু অর্জন করা। এরপর প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি চোট এবং প্রতিটি প্রত্যাবর্তনের গল্প আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট শুধু একটি ফরম্যাট নয়, এটি আমার জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে। যদিও আমি টেস্ট ক্রিকেটে আমার শেষ বলটি করে ফেলেছি, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার গর্ব সবসময় হৃদয়ে লালন করব। ধন্যবাদ টেস্ট ক্রিকেট।”

