অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ৫৩ বছর বয়সী এই প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বের মতে, কর্মজীবনে উন্নতি করতে হলে নিজেকে সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যময় গণ্ডির ভেতর আটকে রাখা উচিত নয়। বরং যে পরিবেশে নিজের দক্ষতা অন্যদের তুলনায় কম মনে হয়, এমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়মিত নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পিচাই বিশ্বাস করেন, অস্বস্তিকর পরিস্থিতিই মানুষকে দ্রুত শেখার এবং নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
সুন্দর পিচাইয়ের জীবনের পথচলা শুরু হয়েছিল ভারতের চেন্নাই থেকে। তার পরিবারে শিক্ষাকেই ভবিষ্যতের সেরা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হতো। শৈশবে একটি টেলিফোন সংযোগ পেতে পাঁচ বছর অপেক্ষা এবং প্রথমবার কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তার মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করেছিল। ১৯৯৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভারত ত্যাগ করেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজ করেন। এরপর হোয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানিতে যুক্ত হন। ২০০৪ সালে পণ্য ব্যবস্থাপক হিসেবে গুগলে তার যাত্রা শুরু হয়।
গুগলের শুরুর দিকে খুব একটা পরিচিত মুখ না হলেও, দ্রুতই তিনি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি গুগলের ক্রোম, জিমেইল ও ম্যাপসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি গুগলের সিইও এবং ২০১৯ সালে মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি এবং ফোরচুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী পিচাইয়ের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। নিজের এই সাফল্যের পেছনে ভাগ্যের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তরুণ পেশাজীবীদের জন্য সুন্দর পিচাইয়ের পরামর্শ প্রচলিত ধ্যান-ধারণার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। সাধারণত ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য সবাই আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি বা যেখানে নিজের দক্ষতা বেশি কাজে লাগে, এমন নিরাপদ জায়গা খোঁজে। কিন্তু পিচাইয়ের মতে, নিজের দক্ষতার সীমা যেখানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, সেখানেই প্রকৃত শেখার সুযোগ লুকিয়ে থাকে। তার এই মতের সঙ্গে আইবিএমের সাবেক সিইও জিনি রোমেটিও একমত পোষণ করেছেন। জিনি রোমেটি মনে করেন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও স্বস্তি কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না।
পিচাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, শেখার পথে নিরাপত্তাহীনতা বা কিছুটা অনিশ্চয়তা অনুভব করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ব্যর্থতাকে স্থায়ী ক্ষত হিসেবে না দেখে বরং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাই সফল হওয়ার চাবিকাঠি। বেশিরভাগ মানুষই তাদের কাজের ক্ষেত্রে এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলতে চান যেখানে তারা অন্যদের চেয়ে কম জানেন, কিন্তু এই প্রবণতাই ক্যারিয়ারের গতিকে ধীর করে দেয়। তাই নিজেকে ক্রমাগত অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে নিজের সামর্থ্যকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাই পিচাইয়ের সফলতার মূলমন্ত্র।

