তুরস্ককে উড়িয়ে ইতালির ঘুরে দাঁড়ানো

সোমবার রাতে উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ এ১-এর ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন লড়াইয়ে জয় পেয়েছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ইতালি ও ফ্রান্স। প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে বার্সার বৃষ্টিভেজা মাঠে তুরস্ককে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে রবার্তো মানচিনির ইতালি। অন্যদিকে, ব্রাসেলসে স্বাগতিক বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফ্রান্সের রোমাঞ্চকর জয়

ব্রাসেলসের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে দুই দলই গোল করার বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৮তম মিনিটে মাঠের চিত্র বদলে দেন মাইকেল ওলিস। তিনি বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। ওলিসের এই অসাধারণ গোলটি ফ্রান্সকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয় এবং ফরাসি কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী মাধ্যম টিএফ১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি কোচ জিদান ওলিসের প্রশংসা করে বলেন, “সে খাঁটি প্রতিভার অধিকারী এবং সে কেবল খেলতেই ভালোবাসে। আপনি সেটি লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন। ও খেলাটা খুব ভালো বোঝে। ওর পাশে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” চোটের কারণে দলের নিয়মিত অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। গত ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার সময় বাম হাঁটুতে চোট পেয়ে এমবাপ্পে ক্লাবে ফিরে গেছেন। ফলে এই ম্যাচে জিদান তার একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন। টানা ভ্রমণ ও ক্লান্তির কথা উল্লেখ করে জিদান বলেন, “আমাদের এখন বিশ্রাম প্রয়োজন। আমরা প্রচুর ভ্রমণ করেছি কিন্তু পর্যাপ্ত অনুশীলন বা বিশ্রামের সুযোগ পাইনি। তবে দলের লড়াকু পারফরম্যান্সে আমি খুশি।”

তুরস্কের মাঠে ইতালির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

গত শুক্রবার ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের কাছে হেরে রবার্তো মানচিনির ইতালি সমর্থকদের দুয়ো শুনেছিল। তবে তুরস্কে ফিরে তারা প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেয়। ম্যাচ শেষে মানচিনি ইতালীয় টেলিভিশনকে বলেন, “আজ খেলোয়াড়রা চমৎকার পারফর্ম করেছে। এটি একটি কঠিন ম্যাচ ছিল এবং আমরা সঠিক কৌশলে খেলেছি। আমরা মাঠের ওপরের দিকে থেকে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছি এবং পুরো ম্যাচ জুড়ে আক্রমণাত্মক ছিলাম।”

ম্যাচের শুরুর দিকেই তুরস্কের গোলরক্ষক আলতায় বায়িন্দিরের ভুলে স্বাগতিকরা পিছিয়ে পড়ে। ৯ মিনিটের মাথায় পিও এস্পোসিতোর একটি শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন বায়িন্দির। তবে সেই কর্নার থেকে জুভেন্টাসের জ্যাকি চেলিক বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি জোরালো শটে বল জালে পাঠান। ২৩ মিনিটে মাইকেল কায়োদের ক্রস বায়িন্দির ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে লাৎসিওর দাভিদে ফ্রাত্তেসি ব্যবধান ২-০ করেন। এরপর কায়োদের আরেকটি শট পরাস্ত করে ইতালির তৃতীয় গোলটি এনে দেয়।

তুরস্কের প্রতিরোধ ও এস্পোসিতো ভাইদের আবেগঘন মুহূর্ত

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, ম্যাচের ৪৭ মিনিটে ওগুজ আয়দিনের পাস থেকে বারিস ইয়িলমাজ গোল করে তুরস্কের সমর্থকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছিলেন। তবে ইতালির ব্যবধান বাড়াতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগে। টটেনহ্যামের সান্দ্রো তোনালির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ফিরতি বলে ডাইভিং হেডে গোল করেন পিও এস্পোসিতো। নিজের এই গোলটি অসুস্থ দাদিকে উৎসর্গ করে পিও বলেন, “আমি আজকের গোলটি আমার দাদিকে উৎসর্গ করছি, যিনি বর্তমানে একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।”

এই ম্যাচে পিও এস্পোসিতো তার বড় ভাই সেবাস্তিয়ানো এস্পোসিতোর সাথে খেলার সুযোগ পান, যার এই ম্যাচে ইতালির জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল। বড় ভাইয়ের সাথে খেলার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “একই সাথে মাঠ ভাগ করে নেওয়াটা অত্যন্ত আবেগঘন ছিল। ম্যাচের আগে আমি ওকে মানসিক সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছি যেন ও বাড়তি চাপ অনুভব না করে। আশা করি আমরা দেশের জার্সিতে আরও অনেক ম্যাচ একসাথে খেলব।”

ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও কোচদের ওপর চাপ

ম্যাচের শেষ দিকে ইয়িলমাজ আরেকটি গোল করলেও সতীর্থ আয়দিন অফসাইডে থাকায় সেটি বাতিল হয়। এই বড় জয়ের ফলে ইতালির কোচ মানচিনির ওপর চাপ কিছুটা কমলেও, তুরস্কের কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেল। মন্তেল্লার অধীনে তুরস্ক ইউরো ২০২৪-এর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও গত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তলানিতে থেকে বিদায় নিয়েছিল।

আগামী শুক্রবার প্যারিসের স্তাদ দে ফ্রান্সে মুখোমুখি হবে ইতালি ও ফ্রান্স। পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মানচিনি ইতালীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা দ্রুত ক্লান্তি কাটিয়ে প্যারিসের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করব। আমি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ও তরতাজা খেলোয়াড় রয়েছে যারা মাঠে নামতে প্রস্তুত।”