পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান দীর্ঘ নয় মাস পর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে তার বোন ও স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে কারাবন্দি এই নেতার জন্য সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার পর এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বুধবার ডন অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় বন্দি ইমরান খান বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ইমরান খানের বোন নুরিন নিয়াজি চলতি বছর প্রথমবারের মতো ১৫ মিনিটের জন্য তার সঙ্গে দেখা করেছেন। জেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারা ইমরান খানের স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। নুরিন তাকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী আদেশের কথাও অবহিত করেন। তবে এই বৈঠকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সুবিধাটি প্রত্যাহার করা হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট আগেই সতর্ক করে দিয়েছে।
কারাগারে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। তার অন্য বোন আলিমা খান ও উজমা খান এবং চাচাতো ভাই কাসিম জামানকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া তার দলের রাজনৈতিক নেতাদেরও এই বৈঠকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে এই সাক্ষাৎ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
আলাদাভাবে, কারাবন্দি স্ত্রী বুশরা বিবিও মঙ্গলবার জেলের কনফারেন্স রুমে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করেছেন। জেল সূত্র পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, খানের সাথে তার স্ত্রীর সাক্ষাৎ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। একই সময়ে আদিয়ালা জেলে বন্দি বুশরা বিবি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। বুশরার সন্তান মুসা ও মুবাশারা মানেকা এবং ননদ মেহরুন্নিসার সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ ৪০ মিনিট স্থায়ী ছিল বলে জানা গেছে।

