নুসরাত মৃত্যুর ঘটনা মামলায় চার আসামির হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে

ফেনীর বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছেন চারজন দণ্ডিত আসামি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির আসামিপক্ষের হয়ে এই আইনি পদক্ষেপ নেন। আপিলকারী আসামিরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা, জুবায়ের, কামরুন নাহার পপি এবং জাবেদ।

আইনজীবী শিশির মনির জানান, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নিম্ন আদালতের রায়ে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের সেই রায়ে ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনকে খালাস দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয় এবং বাকি ৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আপিল আবেদনে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন আইনি অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। আইনজীবী উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ গ্রেপ্তারের পর থেকে সিরাজউদ্দৌলা কারাগারে ছিলেন, কিন্তু ৬ এপ্রিলের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারা প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও কেবল ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এ ধরনের সাজা আইনসঙ্গত নয়। এছাড়া নুসরাতের মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দিতে ছাদের ওপর চার ‘মেয়ে’র উপস্থিতির কথা থাকলেও দণ্ডিতদের মধ্যে পপি ছাড়া বাকিরা পুরুষ, যা তথ্যের অসঙ্গতি নির্দেশ করে। আপিলের মূল যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ: আদালত ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু আইনি অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন শিশির মনির বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং ৬ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘ।

আইনজীবী শিশির মনির আরও বলেন, মামলার ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পিবিআই হেফাজতে নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ১০ জনকে খালাস আর বাকিদের সাজা দেওয়া আইনত স্ববিরোধী বলে আপিলে দাবি করা হয়। এছাড়া উম্মে সুলতানা পপি ও মনির বিরুদ্ধে বোরকা সংগ্রহের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটির সপক্ষেও পরস্পরবিরোধী যুক্তি রয়েছে। এছাড়া যাদের স্বীকারোক্তি ছিল, তাদের মধ্য থেকেও ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী বলেন, মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হওয়া সত্ত্বেও পিবিআই তা আদালতে উপস্থাপন করেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্য উদ্ঘাটনে এই ফুটেজ জরুরি ছিল বলে আসামিপক্ষ মনে করে। আপিল বিভাগ এসব আইনি দুর্বলতা ও তথ্যগত অসামঞ্জস্য বিশ্লেষণ করে আসামিদের ন্যায়বিচার প্রদান করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।