রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা আলোচিত মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজ মঙ্গলবার পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। শুনানি শেষে ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম আগামী ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিন আদালতে পরীমনির পক্ষে হাজিরা দাখিল করেন আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী)। তিনি আদালতের কাছে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, কিছুদিন আগে পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন এই চিত্রনায়িকা। হঠাৎ সেই ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করায় চলাফেরায় অসুবিধায় পড়েছেন তিনি, যে কারণে এদিন সশরীরে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি। এদিন এ মামলায় চার্জগঠনের শুনানির জন্য দিন ঠিক ছিলো।
পরীমনির এই সময়ের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি আদালতকে বলেন, মামলাটি দীর্ঘসময় ধরে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে আটকে আছে। আসামি কয়েক বছর ধরে নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে একের পর এক সময় আবেদন করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় তিনি পরীমনির জামিন বাতিল এবং আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া হাজিরা বাতিলের আবেদন জানান। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিন মামলার অপর দুই আসামি পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দিপু ও তাঁর খালু কবীর হোসেন হাওলাদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে মদ ও মাদক উদ্ধারের দাবি করে র্যাব। এরপরই মামলাটি দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রায় এক মাস কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান পরীমনি। একই বছরের ৪ অক্টোবর সিআইডির পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। তবে মামলার কার্যক্রম চলাকালীন বাদী র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মজিবর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পরবর্তীতে পরীমনি তা বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ১ মার্চ হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য মামলার বিচারিক কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার ধাপ পেরিয়ে মামলাটি পুনরায় অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে আসে।

