রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী দুই-একদিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বঙ্গভবনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতি এখনও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি যেন কোনো বিতর্ক ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। আর এই পদত্যাগের পরপরই স্পিকারকে অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে হবে।
চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত করে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে, অর্থাৎ শুক্রবার দেশে ফিরছেন। তিনি দেশে ফেরার পর একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। বিএনপির সূত্রগুলো ধারণা করছে, রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করতে পারেন।
মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তি বা আমলাকে এই পদে দেখতে চান না। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকেই কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন তাঁরা।
২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৮ সালের এপ্রিলে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এবং জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
Photo | Source: BBC Bangla

