দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে কাবাডিতে পদকের স্বপ্ন বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমসের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের জন্য ছিল চরম হতাশার। ক্রিকেট ও হকিতে বড় ব্যবধানে হারের পাশাপাশি টেবিল টেনিস ও কারাতেতেও প্রত্যাশিত লড়াই করতে পারেননি তারা। মোট আটটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবকটিতেই হার মেনে নিতে হয়। তবে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই কাবাডি থেকে এসেছে স্বস্তির খবর। নাগোয়ার টোকাইদো জিমনেশিয়ামে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ, যা দলটির পদক জয়ের স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ১৭-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া কাবাডিতে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল এবং ২০১৮ এশিয়ান গেমসে তারা রৌপ্যপদক অর্জন করেছিল। তাদের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এই জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল সবশেষ ২০০২ সালে এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছিল। দুই দশকেরও বেশি সময় পর সেই পদকখরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে লড়ছে নাগোয়ায় আসা দলটি।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ আব্দুল জলিল এই জয়ের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা কোরিয়ার দুই খেলোয়াড়কে মার্ক করে রেখেছিলাম এবং খেলোয়াড়রা আমার নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করেছে। কঠিন লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, কোরিয়াকে হারানোর পর খেলোয়াড়রা উজ্জীবিত এবং কারো কোনো ইনজুরি নেই। তবে সামনে আরও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আজ বিকেলেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে।

গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে। কোচ আব্দুল জলিল বলেন, চাইনিজ তাইপেকে হারাতে পারলে আমরা পদকের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব। মূলত পদকের ভাগ্য নির্ধারণে এই ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও স্বাগতিক জাপান রয়েছে। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে এবং এই চারটি দলই পদক পাওয়ার লড়াইয়ে থাকবে। বিকেলের ম্যাচে তাইপের বিপক্ষে জয়ই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।