পরিচালকের অপেশাদার আচরণ এবং সঠিক যোগাযোগের অভাবে শেষ পর্যন্ত ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন চিত্রনায়িকা অধরা খান। সিনেমাটিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্তকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি বড় ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। অধরা জানান, পরিচালকের অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, সিনেমাটি থেকে তিনি অনেক আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় ভক্ত ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছিল তাকে। এতদিন চুপ থাকলেও, নিজের আত্মসম্মান ও কাজের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুটিং বা সহশিল্পীদের কাজে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে জন্যই এতদিন ধৈর্য ধরেছিলেন।
‘ভায়োলেন্স’ সিনেমার শিডিউল নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে অধরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় সুযোগ হারিয়েছেন। তিনি জানান, এই সিনেমার শিডিউলের কারণে হলিউডসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের প্রস্তাব হাতছাড়া করতে হয়েছে তাকে। যদিও চুক্তিজনিত কারণে প্রজেক্টগুলোর নাম প্রকাশ করেননি, তবে আন্তর্জাতিক এজেন্ট ও কাস্টিং ডিরেক্টরদের কাছ থেকে তাকে সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে। অভিনেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুটিংয়ের মাত্র একদিন আগে যোগাযোগের চেষ্টা করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই ছবিতে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু একজন শিল্পীর সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের কোনো মূল্য এখানে দেওয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। কারো সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পারস্পরিক পেশাদারিত্ব ও শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি বিষয়টি সামনে এনেছেন। উল্লেখ্য যে, কামাল হোসেন বাবর পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করছেন জায়েদ খান ও শিরিন শিলা।

