প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৬১ জেলায় বাদ ২ হাজারের বেশি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ৬১ জেলার ২ হাজার ৩৮৫ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যাদের অনেকেরই অভিযোগ, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের নামে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা মনে করছেন, প্রশাসনিক ত্রুটি ও অসংগতির কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী নিয়োগপত্র পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্যানুযায়ী, জেলাভিত্তিক হিসাবে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ১২০ জন, দিনাজপুরে ১১৪ জন, যশোরে ১০৬ জন, কুমিল্লায় ১০২ জন এবং ভোলায় ৮৪ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৫০৪ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৪২০ জন, চট্টগ্রামে ৩১২ জন, ঢাকায় ২৬৮ জন, সিলেটে ২৬০ জন, রাজশাহীতে ২৫৫ জন, বরিশালে ২৫২ জন এবং ময়মনসিংহে ১১৪ জন প্রার্থী এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যেসব উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি, তাদের তথ্য যথাযথভাবে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, সরকারি চাকরিতে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত ও আবশ্যিক প্রক্রিয়া। চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রার্থীরা তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে খুলনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, খুলনায় ২৭৫ জনের সুপারিশের বিপরীতে ২৬৫ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ১৯৬ জন নিয়োগপত্র পেলেও ৬৯ জন বঞ্চিত হয়েছেন। সুনামগঞ্জে ৬১৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়ার সুপারিশ থাকলেও ১২০ জন বাদ পড়েছেন। এছাড়াও মৌলভীবাজারে ৩৪৭ জনের মধ্যে ৬৭ জন এবং যশোরে ২৯০ জনের মধ্যে ১০৬ জন নিয়োগপত্র পাননি। সুনামগঞ্জে ৬১৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হলেও সর্বশেষ যাচাইয়ে ১২০ জন বাদ পড়েছেন।

নিয়োগের দাবিতে প্রার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে বাদ পড়া প্রতিটি প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ উপায়ে পুনরায় যাচাই করা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগসহ প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা রাখা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এমন অসংগতির কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা। এছাড়া, প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের বিষয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনাসহ ৫ দফা দাবি।