ফিনিক্সের বিপর্যয়েও নাসকার পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে কাইল লারসন

নাসকার প্লে-অফে টানা ছয় সপ্তাহের চমৎকার পারফর্ম্যান্সের পর ফিনিক্স রেসওয়েতে বড় ধাক্কা খেয়েছেন কাইল লারসন। রবিবার মরুভূমির ট্র্যাকে বেশ কিছু দূর্যোগপূর্ণ ঘণ্টার মুখোমুখি হয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৪তম স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেন তার নম্বর ৫ শেভ্রোলে চালক। সামনের ডান দিকের টায়ার ফেটে দেয়ালে ধাক্কা লাগার পর তাকে বেশ হতাশ ভঙ্গিতেই গাড়ি থেকে নেমে আসতে দেখা যায়।

দুর্ঘটনার আগেই শনিবারে কোয়ালিফাইং সেশনে ২২তম স্থানে থেকে দৌড় শুরু করে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল লারসনকে। এক মাইলের ট্রাই-ওভাল ট্র্যাকে পেছনের সারিতে ধুঁকতে থাকার পর টায়ার লিক হওয়া যেন সেই যন্ত্রণার একরকম করুণ পরিণতি এনে দেয়। এই রেসে বিজয়ী হয়ে মৌসুমে নিজের ষষ্ঠ জয় তুলে নেন টাইলার রেডিক। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে রিয়ান ব্লেনি, তৃতীয় চেইস এলিয়ট এবং চতুর্থ স্থানে রেস শেষ করেন ক্রিস্তোফার বেল।

দুর্বিপাক সত্ত্বেও হেন্ড্রিক মোটরস্পোর্টস দলের হয়ে ড্রাইভিং করা লারসন এখনও ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে বেলের চেয়ে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে টালাডেগায় নামার আগে লারসনের মোট পয়েন্ট তালিকায় এই ব্যবধান বজায় আছে। অন্যদিকে ২৪ পয়েন্ট পেছনে থেকে ব্রিসকো তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। এছাড়া লারসনের এই বাজে ফলের সুযোগ নিয়ে ট্রফি জয়ের দৌড়ে টিকে আছেন ডেনি হ্যামলিন (৩১ পয়েন্ট পেছনে), ব্লেনি (৪০ পয়েন্ট), জোই লোগানো (৪৪ পয়েন্ট) এবং রেডিক (৫৬ পয়েন্ট)।

নিজের পারফর্ম্যান্স নিয়ে লারসন বলেন, “আমি খুব ভালো করার আশা করিনি, তবে এতটা খারাপ হবে তাও ভাবিনি। আজকের দিনটি মোটেও আনন্দের ছিল না, আমরা শুধু যতটুকু সম্ভব পয়েন্ট বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। এখন আমরা টালাডেগায় যাব এবং আজকের কথা ভুলে নতুন করে শুরু করব। সুপারস্পিডওয়েতে আমরা এর আগে ভালো করেছি, তাই আশা করি সেখানে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে পয়েন্ট তুলে নিয়ে খেতাবের লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারব।”

পয়েন্ট তালিকায় তিন ম্যাচ বাকি থাকতে লারসনের এই পতন আগের ছন্দের একেবারেই বিপরীত। ২০০৪ সালে ‘চেজ’ ফরম্যাট চালুর পর প্রথম ছয় প্লে-অফ রেসে তার গড় ফিনিশিং ছিল ২.৮৩, যা এক অনন্য রেকর্ড। তিনি এই পর্বে দুটি রেসে জয় পান এবং দুটিতে দ্বিতীয় হন, যা ২০০০-এর দশকে জিমি জনসনের স্বর্ণযুগকে মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু এই বাজে ফলের পর পুরো দলকে আবার নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ফিনিক্সে জয়ের পর ২৩এক্সআই টিমের চালক টাইলার রেডিকের নম্বর ৪৫ টয়োটা নতুন গতি ফিরে পেয়েছে। বছরের শুরুতে প্রথম ছয়টির মধ্যে চারটি রেস জিতলেও গ্রীষ্মে দলটির পারফর্ম্যান্সে ভাটা পড়েছিল। আবার লড়াইয়ে ফেরা নিয়ে রেডিক জানান, কেবল প্রতিটি রেসে মনোযোগ ধরে রাখা ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলেই এই জয় এসেছে। পাশাপাশি লাস ভেগাস ও শার্লটে টানা জয়ের পর ব্রিসকো যেমন লড়াইয়ে আছেন, তেমনি ডেনি হ্যামলিনের ১১ নম্বর টয়োটা ফিনিক্সে টায়ার ফেটে যাওয়া ও পিট রোডে গতিসীমা লঙ্ঘনের কারণে ২৮তম স্থানে শেষ করলেও পয়েন্ট হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

জোই গিবস রেসিংয়ের হয়ে ব্লেনি ও লোগানো ফিনিক্সে ভালো রেস করে টালাডেগার জন্য আত্মবিশ্বাস কুড়িয়েছেন। এছাড়া চতুর্থ স্থানে থাকা বেল লারসনের থেকে মাত্র ৫ পয়েন্ট দূরে আছেন। বেল বলেন, “লড়াইটা বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। আমাদের টিম সত্যিই দুর্দান্ত গাড়ি তৈরি করছে এবং কোয়ালিফাইংয়ে ভালো করে চালকের সারিতে থাকছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

চলতি মৌসুমে ১৮টি রেসে জিতে নাসকার কাপ সিরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স চ্যাম্পিয়নশিপ নিজেদের নামে করেছে টয়োটা। ২০১৯ সালের পর এটাই তাদের প্রথম ম্যানুফ্যাকচারার্স টাইটেল এবং এক মৌসুমে সর্বাধিক জয়। প্লে-অফ র্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয়জন চালকের মধ্যে পাঁচজনই টয়োটার, যার মধ্যে বেল দ্বিতীয়, ব্রিসকো তৃতীয়, হ্যামলিন চতুর্থ, রেডিক সপ্তম ও টাই গিবস নবম স্থানে রয়েছেন। এছাড়া বুব্বা ওয়ালেস তালিকার ১২তম স্থানে রয়েছেন।

রবিবারের বাজে পারফর্ম্যান্স ভুলে যাওয়া লারসনের জন্য কঠিন হলেও এখনই তার কাপ সিরিজ চ্যাম্পিয়নশিপের আশা শেষ হয়ে গেছে বলা যাবে না। যদিও তার গতি সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে, তবুও টালাডেগার পরবর্তী রেসে লারসন ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না সেদিকেই এখন সবার নজর।