ইউরোপসেরা মঞ্চে আজ মুখোমুখি বার্সা ও পিএসজি

ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে আজ মঙ্গলবার রাতে মাঠে নামছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং বার্সেলোনা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটের লিগ ফেজে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে দুই দলই। চলতি মৌসুমে গোল করার রেকর্ডে ইউরোপের অন্য সব দলকে ছাড়িয়ে গেছে এই দুই ক্লাব।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপের পর থেকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে প্রতি ম্যাচে গোল দেওয়ার হার অনুযায়ী বায়ার্ন মিউনিখের পরেই যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা ও পিএসজি। বার্সেলোনা ৬৮ ম্যাচে ১৯২টি গোল করে গড়ে প্রতি ম্যাচে ২.৮২ গোল পেয়েছে। অন্যদিকে, পিএসজি ৬৭ ম্যাচে ১৫৪টি গোল করেছে, যার গড় প্রতি ম্যাচে ২.৩টি। এছাড়া এক্সপেক্টেড গোলের সূচকেও বার্সেলোনা (২.৫৬) ও পিএসজি (২.২২) তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১টি ম্যাচের ১০টিতেই ৩ বা তার বেশি গোল করার অনন্য নজির গড়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ম্যাচে তারা ৫ বা তার বেশি গোল করেছে। দলের আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করতে ট্রান্সফার উইন্ডোতে অ্যান্থনি গর্ডন ও কারিম আদেয়েমির মতো ক্ষিপ্রগতির উইঙ্গারদের দলে ভিড়িয়েছে ক্লাবটি। এছাড়া গ্যাব্রিয়েল জেসুসের সংযোজনে ফরোয়ার্ড লাইনে এসেছে নতুন বৈচিত্র্য। গ্যাব্রিয়েল জেসুস যুক্ত হওয়ায় ফরোয়ার্ড লাইনে তৈরি হয়েছে নতুন বৈচিত্র্য।

পিএসজির শক্তির মূল জায়গা তাদের গভীর স্কোয়াড। গত শনিবার লিগ আঁ-তে স্ট্রাাসবুর্গের বিপক্ষে মূল একাদশে আটটি পরিবর্তন আনলেও ৩-১ গোলের সহজ জয় পেয়েছে দলটি। বিশ্লেষকদের মতে, ঘরোয়া লিগে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ থাকায় চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নিতে পারছে পিএসজি। এছাড়া গত মৌসুমে লুইস এনরিকের অধীনে এই ধাপেই পিএসজি ২-১ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনাকে। নকআউট পর্বে রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ইতিহাস গড়া পিএসজি তিন মৌসুম আগের কোয়ার্টার ফাইনালেও বার্সাকে হারিয়েছিল। পিএসজির মূল শক্তি তাদের স্কোয়াডের অবিশ্বাস্য গভীরতা।

ম্যাচটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো পিএসজি কোচ লুইস এনরিকের বার্সেলোনা-সংশ্লিষ্টতা। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার প্রধান খেলোয়াড় ছিলেন এবং ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোচ হিসেবে ২০১৫ চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুটি লা লিগাসহ ট্রেবল জয় করেছিলেন। এছাড়া ফেরান তোরেস বর্তমানে বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে খেলছেন।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও দুই ক্লাব এখন বিশ্বসেরা। ২০২৫ ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ ১৪ জনের মধ্যে আটজনই ছিলেন এই দুই ক্লাবের। এর মধ্যে বিজয়ী উসমান ডেম্বেলে ও তৃতীয় স্থান পাওয়া ভিতিনহা পিএসজির খেলোয়াড়, আর দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বার্সার লামিনে ইয়ামাল। আগামী সপ্তাহে ঘোষিত হতে যাওয়া ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও এই দুই ক্লাবের ১৩ জন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। বিশেষ করে ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল চলতি মৌসুমে লা লিগায় আটটি গোল করে এবার ব্যালন ডি’অরের প্রধান দাবিদার হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন। ২০২৫ ব্যালনে ডি’অরের শীর্ষ ১৪ জন ফুটবলারের মধ্যে ৮ জনই ছিলেন পিএসজি ও বার্সেলোনার। শুধু দলীয় পারফরম্যান্স নয়, ব্যক্তিগত সেরা নৈপুণ্যেও দুই ক্লাবের ফুটবলাররা বিশ্ব শাসন করছেন। ইয়ামাল, গর্ডন, আদেয়েমি ও রাফিনহাকে নিয়ে গড়া বার্সার ফ্রন্টলাইন এবং ডেম্বেলে ও ভিতিনহাদের নিয়ে সাজানো পিএসজির আক্রমণভাগের এই লড়াই পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়তে বাধ্য।