বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ সময়ের দাবি: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে জাতীয়করণ আজ হোক বা কাল হোক হবেই। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার সবই শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালে সম্ভব হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই শিক্ষা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় ১ লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার অবসর ভাতা প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। শিক্ষকদের সার্বজনীন সামাজিক মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষকতাই একমাত্র পেশা যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসা এই সরকার শিক্ষা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় বার্ষিক অতিরিক্ত সাত থেকে আটশ কোটি টাকার প্রয়োজন। তিনি শিক্ষকদের একটি সুশৃঙ্খল ও বড় আকারের জাতীয় সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই। জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে শিক্ষক সমাজকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয়করণের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭ থেকে ৮ শত কোটি টাকার প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫.৫ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর্থিক অনুদান দেবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে এবং ছুটির দিনে বা অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে। একই সাথে বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ৭ মাস।

শিক্ষক সমাজকে সমাজের মূল চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক হিসেবে অভিহিত করে প্রতিমন্ত্রী যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ সময় সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।