ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ

বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। আসরের লীগ পর্বে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছিল স্বাগতিকরা। সেই হারের ক্ষত ভুলে আজ দুপুর ৩টায় শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। ফাইনালে জয় পেতে হলে ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচের ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দিয়েছেন দলের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। লীগ পর্বে ভারতের কাছে ৩৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। স্কোরলাইন ছিল ৪৭-১৩।

ম্যাচের আগে অনুশীলনে ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বলের দখল ধরে রাখার কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মতে, প্রতিপক্ষের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ বা ফাস্ট ব্রেক সামলাতে পারলেই জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। আলোনসো বলেন, ভারত পুরো ৬০ মিনিট দ্রুত গতিতে খেলার সক্ষমতা রাখে। আগের ম্যাচে তাদের সেই ফাস্ট ব্রেক থামানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এবার ভারতকে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়াই মূল লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, আগের চেয়ে আরও ভালো খেলা এবং সমানতালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য সম্ভব। আর ফাস্ট ব্রেকে যখন ওরা ছুটে আসছিল, আমরা ওদের আক্রমণ থামাতে পারিনি।

কোচ মনে করেন, রক্ষণভাগ শক্তিশালী করার পাশাপাশি আক্রমণেও ভুল কমিয়ে আনা প্রয়োজন। পুরো ৬০ মিনিট মাঠে পূর্ণ মনোযোগ বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জরুরি। দলের খেলোয়াড় মাসুদা আক্তারও ফাইনাল নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সেরাটা দিতে পারি, তবে অবশ্যই ভালো ফল সম্ভব। আগের ম্যাচের তুলনায় কম গোলের ব্যবধানে হেরে বা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার লক্ষ্য তাদের। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও ভুল কমাতে হবে বাংলাদেশকে। ভারতকে হারানোর নিশ্চয়তা না দিলেও নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো ফলের আশা করছেন মাসুদা। তার ভাষায়, ‘আমরা সবাই যদি সবার বেস্টটাতে ট্রাই করি, অবশ্যই একটা ভালো রেজাল্ট করবো। সেকেন্ড ম্যাচে যেমন গোল খেয়েছিলাম আমরা, হয়তোবা তার থেকে একটু কম, কম গোলের ব্যবধানে হয়তোবা কোনো একটা কিছু করা যায়।

দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। ভারতের শক্তিশালী আক্রমণ সামলাতে রক্ষণভাগের শৃঙ্খলার পাশাপাশি আক্রমণের কার্যকারিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। আজ খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটুকু উজাড় করে দিতে পারলে শিরোপার লড়াইয়ে ভারতকে ভালোভাবেই চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব বলে দল মনে করছে।