ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিতে (এনটিএ) বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ৪৭ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিট-ইউজি (এনইইটি-ইউজি) পুনঃপরীক্ষা বিতর্কের পর এটি ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি নির্বাহী হস্তক্ষেপ। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪’-এর আওতায় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে একটি বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করেছে। এখন থেকে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সব মামলা এই বিশেষ আদালতে পরিচালিত হবে। দিল্লি হাইকোর্টের বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে বিচারক অনু গ্রোভার বালিগাকে এই বিশেষ বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে, প্রশ্নফাঁস রোধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই সংশোধনী বিলটি শনিবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
এনটিএ-তে শুদ্ধি অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। নরেশ পাল গাঙ্গওয়ারকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং টি কে অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিদায়ী সচিব বিনীত জোশীকে পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম নেতা সোনম ওয়াংচুক সরকারের আশ্বাসের পর ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য শনিবার বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।

