আন্তর্জাতিক বিরতির এই সময়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের নতুন মৌসুম বেশ জমে উঠেছে। লা লিগায় ইতিমধ্যে পাঁচভাগের এক ভাগ পথ অতিক্রম করা হয়ে গেছে। এমন সময়ে জোসে মরিনিওর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের পথচলা বিশ্লেষণ করলে মিশ্র অভিজ্ঞতার চিত্র পাওয়া যায়। সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয় এলেও, বড় দলগুলোর বিপক্ষে পারফরম্যান্সে ঘাটতি স্পষ্ট। বিশেষ করে বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য ফর্মের বিপরীতে হান্সি ফ্লিকের দলের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়ালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্যবধান ঘোচানো।
দলের আর্থিক ও কৌশলগত অবস্থান
- বেতন কাঠামো: রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনার ব্যয়ের সীমায় বড় পার্থক্য বিদ্যমান।
- গুয়েরের অপরিহার্যতা: আক্রমণের ধার বাড়াতে আরদা গুলেরকে মাঝমাঠ বা ডান উইংয়ে রাখা এখন কৌশলগতভাবে বাধ্যতামূলক।
- কার্লোস এস্পি: শেষ মুহূর্তের ভরসা হিসেবে ২১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার নিজেকে প্রমাণ করছেন।
- ট্রান্সফার লক্ষ্য: কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যাকআপ হিসেবে এস্পির ভূমিকা নির্ধারিত ছিল শুরু থেকেই।
আরদা গুলেরের ফুটবল জাদুতে কোনো সংশয় নেই। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ গত মৌসুমে লা লিগার সেরা গোলের পুরস্কার জিতেছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেও, ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতে নতুন কোচের পরিকল্পনায় তার জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল। ১০ নম্বর রোলে মরিনিওর প্রথম পছন্দ জুড বেলিংহাম হওয়ায় গুলেরের লড়াইটা সহজ ছিল না। তবে মাঠের খেলায় গুলের দেখিয়েছেন কেন তাকে নিয়মিত খেলানো উচিত। এই মৌসুমে তার পা থেকে এসেছে ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পাস, যা লা লিগার যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। মজার ব্যাপার হলো, বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল গুলেরের চেয়ে ২৩০ মিনিট বেশি খেলেও তার চেয়ে একটি পাস কম দিয়েছেন।
লেভান্তে থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোয় দলে আসা কার্লোস এস্পি এমবাপ্পের বেঞ্চ ব্যাকআপ হিসেবে এলেও, তিনি হয়ে উঠছেন ‘সুপারসাব’। মাত্র ২৫ মিনিট মাঠে নেমে তিনি দুটি গোল করেছেন, যা দলটির জন্য মহামূল্যবান ৪ পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে। সতীর্থরা তাকে ইতিমধ্যে ‘হোসেলু ২.০’ হিসেবে ডাকতে শুরু করেছেন। তার আকাশচুম্বী লাফ ও বক্সে উপস্থিত থাকার ক্ষমতা বর্তমানে রিয়ালের অন্যতম সম্পদ।
অন্যদিকে, লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে আসা ১৯ বছরের আইভরি কোস্টের তারকা ইয়ান দিওমান্দে এখনো মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। মরিনিও তাকে মাত্র দুটি ম্যাচে শুরুতে রেখেছেন, যা সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তবে মরিনিও কাঁচা হীরা সামলাতে সব সময় সতর্ক। দিওমান্দে বর্তমানের চেয়েও বেশি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।
এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস দ্বন্দ্ব ও মরিনিও দর্শন
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর ফরাসি পত্রিকা ‘লেকিপ’ রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের অবস্থানের যে চিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে এমবাপ্পে গোল পেলেও, ভিনিসিয়ুস যেন নিজের ছায়া হয়ে আছেন। মরিনিও মাদ্রিদে দ্বিতীয় দফায় ফেরার সময় যে শান্ত ও পরিণত ভাব দেখিয়েছিলেন, তা এখন চাপের মুখে অনেকটাই ম্লান। এলচের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মিটিমিটি হেসে পেনাল্টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু অ্যাটলেটিকোর কাছে হারের পর তার রণমূর্তি সবার চোখে পড়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে কাগজপত্র নিয়ে এসে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ৪১ বছর বয়সী মিগেল আনহেল ওরতিস আরিয়াসকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বার্সেলোনা ও অ্যাটলেটিকোর পক্ষে যাওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে ‘হাস্যকর’ বলে তিনি আবারও ষড় ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন। মরিনিওর ভাষায়, যদি ‘ওরা’ তাদের শান্তিতে কাজ করতে দেয়, তবেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। রক্ষণভাগের সামনে খেলা নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার না আনায় মরিনিও এখন মূলত বেলিংহামের ওপরই ভরসা করছেন, যা মৌসুমের বাকি অংশে কতটা টেকসই হবে তা দেখার বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লা লিগায় তো ম্যাচের হিসাবে মৌসুমের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পথ পাড়ি দেওয়া শেষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলক্ষুধা চোখ জুড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদকে তো আর বার্নাব্যুতে মালাগার মতো দলকে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতায় মাপা হয় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই কঠিন দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে আবার ভেসে উঠেছে পুরোনো ক্ষত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চোটে কয়েক সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেলেন ভালভের্দে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন একটা নড়বড়ে সূচনা হয়তো মেনে নেওয়া যেত, যদি না চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ঝড়ের গতিতে সবাইকে পিষে ফেলত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হান্সি ফ্লিকের অপরাজিত দলটা এরই মধ্যে চতুর্থ রিয়ালের চেয়ে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে।

