যুক্তরাষ্ট্রে আয়ের শ্রেণিবিভাগ: আপনার পরিবারের অবস্থান কীভাবে বুঝবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় কত হলে তাকে নিম্ন, মধ্যম বা উচ্চ আয়ের পরিবার হিসেবে গণ্য করা হবে, তার কোনো একক সরকারি মানদণ্ড নেই। তবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এই অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে একটি পরিবারের প্রকৃত মধ্যম আয় ছিল ৮৩ হাজার ৭৩০ ডলার, যা ২০২৩ সালের ৮২ হাজার ৬৯০ ডলার থেকে কিছুটা বেশি।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের পদ্ধতি অনুযায়ী, জাতীয় মধ্যম আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত আয়কে সাধারণত মধ্যম আয়ের পরিসর ধরা হয়। এই হিসাব অনুযায়ী, ৮৩ হাজার ৭৩০ ডলারের দুই-তৃতীয়াংশ প্রায় ৫৫ হাজার ৮২০ ডলার এবং দ্বিগুণ প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬০ ডলার। অর্থাৎ, প্রায় ৫৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ডলারের মধ্যে বার্ষিক আয় থাকা পরিবারগুলোকে মোটামুটি মধ্যম আয়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই সীমার নিচে থাকা পরিবারগুলো নিম্ন আয়ের এবং ওপরে থাকা পরিবারগুলো উচ্চ আয়ের শ্রেণিতে পড়ে।

তবে নিম্ন আয় মানেই যে পরিবারটি সরকারিভাবে দরিদ্র, বিষয়টি তেমন নয়। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ২০২৬ সালের দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য বার্ষিক দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ডলার। ফলে বছরে ৫০ হাজার ডলার আয় করা একটি পরিবারকে সরাসরি দরিদ্র বলা যাবে না। আবার ১ লাখ ডলার আয় করলেই যে সব পরিবারের জীবনযাত্রার মান একই রকম হবে, সেটিও সঠিক নয়; কারণ পরিবারের আকার ও বসবাসের স্থানের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয় নির্ভর করে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২২ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মধ্যম আয়ের পরিবারের সদস্য। তবে পরিবারের আকার ও ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে এই পরিসংখ্যান সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয় না। তাই আপনার পরিবারের আয় ৬০ হাজার, ৮০ হাজার, ১ লাখ, দেড় লাখ বা ২ লাখ ডলার যাই হোক না কেন, কেবল একটি জাতীয় সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থান চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত নয়।

পরিশেষে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিম্ন-মধ্যম’, ‘মধ্যম’ বা ‘উচ্চ’ আয়ের কোনো একক ফেডারেল আয়সীমা নেই। এগুলো মূলত বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদ্ধতির মাধ্যমে আয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার উপায় মাত্র। তাই নিজের আর্থিক অবস্থান বুঝতে হলে আয়ের পাশাপাশি পরিবারের আকার, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ২০২৬ সালের দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, ৪ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বার্ষিক দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সীমা মূলত কিছু সরকারি সুবিধার আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা বোস্টনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় একই আয় দিয়ে যে জীবনযাপন সম্ভব, কম খরচের এলাকায় তার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।