রাজধানীতে পুলিশ পরিচয়ে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়: প্রবাসীর ১৯ লাখ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুলিশ পরিচয়ে এক প্রবাসীর বড় অংকের অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওমার ফারুক (৩০) সৌদি আরব থেকে ছয় বছরের উপার্জিত সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ নিয়ে দেশে ফিরছিলেন। শনিবার ভোর ৫টা ৬ মিনিটের দিকে গণভবন সংলগ্ন জুলাই জাদুঘর ও জিয়া উদ্যানের সিগন্যাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে ৪ হাজার ৭০০ সৌদি রিয়াল এবং প্রায় ৮৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৯ লাখ টাকা। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই ঘটে যায় ভয়ংকর ঘটনাটি।

ভুক্তভোগী ওমার ফারুক কেরানীগঞ্জের সুবর্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা দুদু মিয়ার ছেলে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে তিনি প্রবাস জীবন শুরু করেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। তাকে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা দুদু মিয়া এবং চাচাতো ভাই আব্দুর রহমান ও দুলাল মিয়া। গভীর রাত হওয়ায় তারা কিছুটা সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করে ভোর পৌনে ৫টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। ২০২০ সালের মার্চে সৌদিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে করতে রাত সাড়ে ১২টা। দুই ভাই ও দুই বোনের সংসারে ছোট ছেলেটিই ছিল পরিবারের অন্যতম ভরসা।

সফরের সময় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি গণভবন এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি হায়েস গাড়ি তাদের পথরোধ করে। গাড়িটি থেকে চার-পাঁচজন লোক নেমে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, প্রবাসীর গাড়িতে অবৈধ মালামাল রয়েছে। একপর্যায়ে ‘ভয়ের কিছু নেই, শুধু চেক করা হবে’—এমন কথা বলে তারা গাড়ির চাবি কেড়ে নেয় এবং দ্রুত তল্লাশির নামে ওমারের কাছে থাকা নগদ রিয়াল ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে এই অপরাধ সংঘটিত করে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। তবে প্রবাসীর মোবাইল ফোন বা অন্যান্য সামগ্রী তারা নেয়নি। আরও জানা যায়, ৪ থেকে ৫ জন লোক পুলিশ পরিচয় দিয়ে জানান, তাদের গাড়িতে অবৈধ মালামাল রয়েছে, এমন খবর পেয়েছেন তারা। এরপর বামে ইউটার্ন নেয়ার সময় পেছন থেকে একটি হায়েস গাড়ি এসে তাদের গাড়ির সামনে দাঁড়ায়। আমরা কোনো কিছু নেব না, শুধু চেক করবো’। প্রথমে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়নি।

এ ঘটনায় ওমার ফারুক শেরেবাংলা নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অচিরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও মামলা গ্রহণ করা হবে।