সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে ধারদেনা করে ৮ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাকির হোসেন। সেখানে আমুর অঞ্চলের একটি নির্মাণাধীন গ্যাস-রাসায়নিক কমপ্লেক্সে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। গত ২৫ আগস্ট সেই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারান, যার মধ্যে জাকিরও ছিলেন। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
নিহত জাকির হোসেন (৩৫) ভৈরবের কালিকা প্রসাদ ইউনিয়নের আতকা পাড়া গ্রামের মৃত রতন মিয়ার বড় ছেলে। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। গত ২৭ আগস্ট রাশিয়ায় কর্মরত এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে জাকিরের মৃত্যুর খবর প্রথম জানতে পারেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরিচয় শনাক্তের পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বুধবার দুপুরে মরদেহটি আতকা পাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ, যা দেখে প্রতিবেশীরাও শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। জীবিকার সন্ধানে যে বাড়ি থেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন জাকির, সেই বাড়িতেই ফিরলেন নিথর হয়ে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অভাব ঘোচানোর আশায় ধারদেনা করে বিদেশে গিয়ে স্বপ্ন পূরণের আগেই তাঁকে প্রাণ হারাতে হলো।
বুধবার বিকেলে আতকা পাড়া কবরস্থান মাঠে জানাজা শেষে জাকির হোসেনকে সেখানে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই সহকর্মীরা জাকিরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি, তবে পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ দেশে আনার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।

