সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সেতুর অভাবে চার দশক ধরে বিচ্ছিন্ন বিয়ারা চরপাড়ার ১৩০০ মানুষ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিয়ারা চরপাড়ায় একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। পাকা সড়ক থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত এই চরপাড়াটি বর্ষাকালে খালের পানির কারণে প্রায় ছয় মাস মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমেও খাল পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। বর্ষায় খালে ১০ ফুটের বেশি পানি জমে গেলে এলাকাটি চারদিক থেকে জলমগ্ন হয়ে পড়ে, তখন শিক্ষার্থী, নারী, বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো কিংবা সাঁতরে চলাচল করতে হয়।

প্রতিবছর স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও তা অত্যন্ত সরু ও অনিরাপদ। এই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে অনেক শিশু ও বয়োবৃদ্ধ আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। চরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা কুড়ান মণ্ডল খালের ওপারে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার সেখানে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে সেখানে বেশ কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলার রহমান আক্ষেপ করে বলেন, জীবন প্রায় শেষ পর্যায়ে, কিন্তু নাতি-নাতনিদের স্কুলে যাতায়াতে চরম ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই নাজুক অবস্থার কারণে সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিউটি খাতুন জানান, যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় বাড়িঘরের উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। এমনকি বিয়ের উপযুক্ত ছেলে-মেয়ে থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরবস্থার কারণে অনেক সময় বিয়ের সম্পর্কও ভেঙে যায়। স্থানীয়দের দাবি, তারা কোনো ত্রাণ চান না, শুধু একটি স্থায়ী সেতু চান। পিয়ারা খাতুন জানান, গত কয়েক বছরে পৌরসভার মেয়রের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে এবং সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই পৌর প্রশাসকের কাছেও আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। জোৎস্না খাতুন বলেন, এটি তাদের প্রাণের দাবি।

কাজিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ১৩০০ মানুষের বসবাস। এলাকায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চারটি মসজিদ থাকলেও পৌরসভার অন্যান্য এলাকার তুলনায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অনেক কম বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয়রা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কাজিপুর পৌরসভার দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম (লিটন) জানান, ‘টেকসই উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এই প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ চার দশকের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু নাতি-নাতনিরা খুব দুর্ভোগে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় ৪০ বছর ধরে অপেক্ষার পর এবার অন্তত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সেতু চান তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরেক বাসিন্দা জোৎস্না খাতুন বলেন, ‘রিলিফ চাই না, ব্রিজ চাই।