রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে রাজনীতিবিদদের একটি অভিন্ন অবস্থানে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, মতাদর্শগত মতপার্থক্য বা সমালোচনা থাকলেও রাষ্ট্র যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সেদিকে সবার খেয়াল রাখা জরুরি। মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া কেবল সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়ন করে কোনো সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
সোমবার সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক এক স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং নাগরিক সাহস, আত্মত্যাগ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতীক। সংকটের মুহূর্তে দেশের মানুষ যে সংহতি দেখিয়েছে, তা প্রমাণ করে জাতীয় স্বার্থ সামনে থাকলে সব বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব।
আইন বা সংবিধানের চেয়ে মানুষের মানসিকতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, আইন থাকলেও ছিদ্রপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছে। শেখ হাসিনা নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিলেন, যা প্রমাণ করে কাগজে লেখা আইন সবসময় সুরক্ষা দেয় না। তাই এটি কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের বিষয়।
রিজভী আরও বলেন, একটি জাতির শক্তি কেবল অর্থনীতি বা ভূখণ্ডের ওপর নির্ভর করে না, বরং এর ভিত্তি গড়ে ওঠে ইতিহাস ও মূল্যবোধের ওপর। ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের হাতিয়ার না বানিয়ে বরং সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং দায়বদ্ধতাই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আদর্শিক বোধ ও নিরলস প্রচেষ্টাই রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

