ইতালির রাজধানী রোম ও আশপাশের মহানগর এলাকায় বসবাসরত ৬ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা, পরিষেবার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ যাত্রা শুরু করেছে। সম্প্রতি রোমের ‘Istituzionale della Città Metropolitana di Roma Capitale’ কার্যালয়ে আয়োজিত এক উন্মুক্ত অধিবেশনের মাধ্যমে এই নতুন প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। কনসুলতা পারমানেনতে দেল্লা কনভিয়েনজা ইন্টারকলতুরালে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল, রোম ও এর মহানগর এলাকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি ও একীভূতকরণ জোরদার করার বাস্তবসম্মত উপায় খুঁজে বের করা। আবাসনের অধিকার ও বাসস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারী সংগঠনের মধ্যে ছিল ARCI Roma, ANOLF, Slow Food Roma, Comunità Sierra Leone Nuove Generazioni এবং Associazione Comunità Peruviana। রোম ও এর মহানগর এলাকা বহুদিন ধরেই বিভিন্ন মানুষ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। তাঁরা যেন শহরের নাগরিক জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
এই পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মযজ্ঞে ৯টি পৃথক কর্মদল অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় কাজ করেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আবাসননীতি, খেলাধুলা এবং আশ্রয়ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই স্থায়ী মঞ্চটি তৈরি করা হয়েছে। এই পরিষদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিদেশি কমিউনিটির কার্যকর সংলাপ বাড়ানো এবং বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা। এসব কর্মদলে শত শত সহযোগী এবং বিদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অসংখ্য সংগঠন অংশ নিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিষদের বর্তমান ৭৪টি সদস্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর সঙ্গে রোম ক্যাপিটাল প্রশাসনের অংশগ্রহণ যুক্ত হওয়ায় মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫টিতে। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৭টি বাংলাদেশি সংগঠন হলো— বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস), ইসলামিক ইনস্টিটিউট অফ রোম, মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার, অ্যাসোসিয়েশন কালচারাল ইসলামিকা দেল বাংলাদেশ আল আকসা, উলামা কাউন্সিল অফ ইতালি, সঞ্চারী সংগীতায়ন এবং সর্বজনীন শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির। এর মধ্যে নিবন্ধিত বাংলাদেশী সংগঠন রয়েছে ৭ টি বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন এসোসিয়েশন বিমাস, ইসলামিক ইনস্টিটিউট অফ রোম, মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার, এসোসিয়েশন কলতুরালে ইসলামিকা দেল বাংলাদেশ আল আকসা, উলামা কাউন্সিল অফ ইতালি, সঞ্চারী সঙ্গীতায়ন ও সর্বজনীন শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ। তাঁর মতে, কমিউনিটির অংশগ্রহণ কোনো অতিরিক্ত বিষয় নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গুণমান ও কার্যকারিতার একটি অপরিহার্য উপাদান।
অনুষ্ঠানে রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি বলেন, এই পরামর্শ পরিষদের প্রতিষ্ঠা একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কেবল মানুষের কথা শোনার উদ্যোগ নয়, বরং বর্তমান সমাজের জটিল বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি রেখে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়নের একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া। মেয়রের মতে, এই পরিষদের মাধ্যমে রোম প্রশাসন সংলাপ, যৌথ দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে সহাবস্থান গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করল। তবে মেয়র গুয়ালতিয়েরির ভাষায়, এটি শুধু একটি অর্জন নয়; বরং নতুন যাত্রার সূচনা।
রোম মহানগর পরিষদে সমান সুযোগ, সামাজিক নীতি ও সংস্কৃতিবিষয়ক কাউন্সিলর তিজিয়ানা বিয়োলঘিনি বলেন, এই পরিষদ বহু বছর ধরে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। তিনি জানান, রোমকে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহরে পরিণত করাই লক্ষ্য, যেখানে বিদেশি নাগরিকরা সরকারি পরিষেবা ও বিকাশের সমান সুযোগ পাবেন। এই নতুন প্রতিষ্ঠানটি সাংস্কৃতিক মধ্যস্থতা ও ভাষাগত বাধা দূরীকরণেও কাজ করবে। University of Western Australia, NSU Extend Collaboration on Agri-Centre।
উদ্বোধনী আয়োজনে মেয়র ও কাউন্সিলর ছাড়াও রোম সিটি কাউন্সিলের সভাপতি স্বেতলানা চেল্লি, UNAR-এর পরিচালক, মাত্তিয়া পেরাদোত্তো এবং বিভিন্ন দেশের কনসালসহ আন্তঃসাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের লড়াইয়ের ফসল এই পরামর্শ পরিষদ। যুদ্ধ ও বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের সময়ে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ১৫ বছরের লড়াই এক বিকেলের অনুষ্ঠানে মুছে যাবে না: মুশফিকুল ফজল আনসারী।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এই পরিষদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, আবাসন অধিকার রক্ষা এবং অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষাবলয় তৈরির ওপর জোর দেবে। যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে এই পরিষদের কাজের প্রধান ক্ষেত্র। এর মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপকে স্থায়ী এবং কাঠামোগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে, যাতে পারস্পরিক স্বীকৃতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি এবং অভিবাসী ও বিদেশি কমিউনিটির অধিকার সংকুচিত হওয়ার এই সময়ে রোমকে সত্যিকার অর্থে বহুসাংস্কৃতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

