শারজাহর আর্দ্র আবহাওয়ায় রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৯ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। ম্যাচটি ছিল দুই দলের ব্যাটারদের ব্যক্তিগত বীরত্ব ও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। দলীয় ৫ রানেই ৪ উইকেট হারানো দলটি দ্রুত ৩৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায়। সেখান থেকে আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে আফগানিস্তান লড়াইয়ের পুঁজি পায় ২২১ রান। জিম্বাবুয়ের রান তাড়াও শুরু হয়েছিল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে; ৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দলটি যখন হারের অপেক্ষায়, তখন সিকান্দার রাজা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজার একার লড়াই বৃথা যায় এবং ১৯ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
আফগানিস্তানের এই ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কারিগর ছিল ষষ্ঠ উইকেটে ওমরজাই এবং ইজাজ আহমেদজাইয়ের ১৪২ রানের জুটি। ইনিংসের শুরুতে ব্র্যাড ইভান্সের তোপে রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও মোহাম্মদ আকরাম রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানও ৯ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। শহীদুল্লাহ কামাল এবং সেদিউল্লাহ আতাল দ্রুত আউট হলে অর্ধেক পথ পেরিয়ে আফগানিস্তানের স্কোর ছিল মাত্র ৪৫ রান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ওমরজাই ও ইজাজ আহমেদজাইয়ের প্রতি-আক্রমণ। ওমরজাই মাত্র ৪৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং সব মিলিয়ে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১১৬ রান করেন। ইজাজ আহমেদজাই করেন ৫২ রান। শেষে রশিদ খানের ১০ বলে ২৫ রানের ক্যামিও দলকে ২২১ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেয়।
রশিদ খানের মাইলফলক ও জিম্বাবুয়ের লড়াই
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতেই রশিদ খান ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরপর জিম্বাবুয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালে ম্যাচ একপেশে মনে হয়েছিল। কিন্তু সিকান্দার রাজা চরম প্রতিকূলতা ও আর্দ্রতা সামলে দারুণভাবে লড়াই চালিয়ে যান। রাজার সাথে তাফাদজোয়া সিগার ১২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচটি শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নেয়। রাজা অপরাজিত ১০৬ রান করলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে। শহীদুল্লাহ কামালের শেষ ওভারে বড় বাউন্ডারি মারতে না পারায় সফরকারীরা ২০২ রানে থামে। রশিদ খান ১ উইকেট নিলেও তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ২২১/৭ (আজমতুল্লাহ ওমরজাই ১১৬, ইজাজ আহমেদজাই ৫২, রশিদ খান ২৫*; ব্র্যাড ইভান্স ২-৪০)।
- জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ২০২/৫ (সিকান্দার রাজা ১০৬*, তাফাদজোয়া সিগা ৩১*; আব্দুল্লাহ আহমেদজাই ২-৩৪, রশিদ খান ১-২৯)।
- ফলাফল: আফগানিস্তান ১৯ রানে জয়ী।

