ভারতকে থামাতে পথ খুঁজছে নিউজিল্যান্ড, অকল্যান্ডে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি

টানা ভ্রমণ, বিরামহীন ক্রিকেট আর ক্লান্তি সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ইতোমধ্যেই নিজেদের পকেটে পুরেছে ভারত। ভ্রমণের ক্লান্তি কিংবা ঠাসা সূচি নিয়ে কোনো বাহানা বানাতে রাজি নন ভারতীয় ব্যাটার তিলক ভার্মা। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা কোনো অজুহাত দিতে পারি না।” তিন ম্যাচেই ভারতীয় ব্যাটাররা নিজেদের কথা রেখেছেন দুর্দান্তভাবে। ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচেও ১৯৯ রানের বড় লক্ষ্য মাত্র ১৩.২ ওভারে, অর্থাৎ ৪০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একটাই সোজা মূলমন্ত্র: “তোমরা বোলিং করবে, আর আমরা তা সীমানার বাইরে পাঠাব।”

সিরিজ রক্ষায় মরিয়া মিচেল স্যান্টনারের কিউই দল

ভারতের এই বিধ্বংসী ব্যাটিং তান্ডব সম্পর্কে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা একদমই নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ভারতের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতের ব্যাটিং আক্রমণের সামনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাদের। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও ভারতের ২৫৫ রানের সুবিশাল পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে যন্ত্রণাদায়ক হারের স্মৃতি রয়েছে কিউইদের। সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে, যেখানে বাউন্ডারির মাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ছোট। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটারদের এই ঝড় সামলানোর পথ খুঁজছেন। স্যান্টনার বলেন, “আমাদের পথ খুঁজে বের করতেই হবে।” আগামী তিন দিনের মধ্যে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জা এড়াতে হলে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের পরিকল্পনা মাঠে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতেই হবে।

ম্যাচ প্রাকথন এবং দলের সাম্প্রতিক চিত্র

সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর, স্থানীয় সময় রাত ৮:০টা (ভারতীয় সময় দুপুর ১২:৩০ মিনিট)। ছোট বাউন্ডারি এবং ব্যাটারদের জন্য অনুকূল কন্ডিশনের কারণে এই ম্যাচেও রানের বিশাল পাহাড় দেখা যেতে পারে। এই মাঠে ২০১৮ সালে ২৪৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড যেমন রয়েছে, তেমনি বোলারদের দাপট দেখানোর ইতিহাসও রয়েছে। আগের ম্যাচে মায়াঙ্ক যাদবের জায়গায় প্রিন্স যাদবকে একাদশে এনে ‘কৌশলগত পরিবর্তন’ করেছিলেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। যেহেতু সিরিজ ইতিমধ্যেই হাতের মুঠোয়, তাই শেষ দুই ম্যাচে আবার মায়াঙ্ক যাদবকে দেখা যেতে পারে। ভারতের সম্ভাব্য একাদশে রয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মা, সংজু স্যামসন, শ্রেয়স আইয়ার, তিলক ভার্মা, নমন ধীর, নীতিশ রেড্ডি, অক্ষর প্যাটেল, ভুবনেশ্বর কুমার, প্রিন্স যাদব এবং আর্শদীপ সিং বা মায়াঙ্ক যাদব।

ইনজুরি সমস্যা ও নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডের অবস্থা

সিরিজের বাকি অংশ থেকে ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন কিউই পেসার লকি ফার্গুসন এবং ম্যাট হেনরি। তবে হালকা চোটের কারণে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে না খেলা নাথান স্মিথ স্কোয়াডে ফিরতে পারেন। আগের ম্যাচে ১৩.২ ওভারে ১৯৯ রান হজম করা কিউই দল শেষ ম্যাচে খেলা কাইল জেমিসনের জায়গায় স্মিথকে সুযোগ দিতে পারে। কিউইদের সম্ভাব্য একাদশে দেখা যেতে পারে টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস, বেভন জ্যাকবস, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মিচেল স্যান্টনার, নাথান স্মিথ, অ্যাডাম মিলনে, জ্যাকব ডাফি এবং ম্যাথিউ ফিশারকে। সফরকারী ভারতের বিপক্ষে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই দলের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো

  1. চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাওয়ারপ্লেতে ভারতের দুর্দান্ত আধিপত্য রয়েছে, যেখানে তাদের গড় পাওয়ারপ্লে স্কোর ৮৫ রান।
  2. ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলারদের ইকোনমি রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৮৫-এ।
  3. নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটার টিম সাইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন দলের জয়ের ম্যাচগুলোতে ৬২.০৯ গড়ে রান করলেও পরাজয়ের ম্যাচগুলোতে তাদের গড় কমে দাঁড়ায় ২৩.৪৪।
  4. নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৩০টি উইকেটের মালিক এবং চলতি সিরিজে স্বাগতিকদের মধ্যে একমাত্র বোলার যার ইকোনমি রেট ১০-এর নিচে।

বোলিং এবং দলের অভ্যন্তরীণ কথা

নিজের বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিলক ভার্মা বলেন, “দল ব্যবস্থাপনা হিসেবে আমরা আমার বোলিং নিয়ে কথা বলেছি এবং আমি অনেক কাজ করেছি। এখন আমাদের দলে নমন ধীর রয়েছে। সে বল হাতে খুব ভালো করছে, তাই আমার বোলিংয়ের খুব একটা প্রয়োজন পড়ছে না। তবে নেপথ্যে আমি নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে সুযোগ পেলেই বোলিং করতে পারব। বর্তমানে টি-টোয়েন্টিতে নমন ধীর বল হাতে বেশ ভালো করছে।” অন্যদিকে, দলের সেরা পেসারদের ইনজুরি নিয়ে কিউই হেড কোচ রব ওয়াল্টার বলেন, “লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরিকে হারিয়ে আমরা হতাশ। চোট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অংশ হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের না পাওয়াটা কঠিন। ম্যাট আগামী বড় সামার সিজনের কথা ভেবে এমনিতেও টি-টোয়েন্টি থেকে বিশ্রামে থাকত, আমরা আশাবাদী ওডিআই সিরিজে তাকে পাব। লকি ইডেন পার্কের ভরা গ্যালারির সামনে খেলতে ব্যাকুল ছিল, তবে সেও ওডিআই সিরিজে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছে।”