সততা ও মানবিকতায় সেবার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা কেবল আদেশ-নির্দেশ নয়, বরং মানবিক আচরণও তাদের অন্যতম অধিকার। কোনো নাগরিক যেন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব। নির্মোহ ভাবে নাগরিক সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনের প্রয়োজনে প্রত্যেকেরই কখনো না কখনো অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। নিজেরা অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গেও ঠিক তেমন আচরণ করতে হবে।’। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়ম ও আইনের আওতায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তবে জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি এখন জনগণের ইশতেহার ও জনগণের দলিল।

রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে তিনি প্রশাসনের সফলতা ও উন্নয়নের জন্য সততা ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এ ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকা রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, একাডেমিক শিক্ষার বাইরে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল আপনারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিখেছেন। এখন সেই অর্জিত জ্ঞান সরকারি দায়িত্ব পালনে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে হবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের যে ক্যাডারেই আপনারা কর্মরত থাকুন না কেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের সেবা করাই আপনাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে তাদের কর্মস্থল ও কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে। তবে জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা দূর করে সেবাকে সহজ ও জনবান্ধব করার জন্য কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মানসিকতা জরুরি। তিনি উদাহরণস্বরূপ বলেন, কোনো নাগরিকের আবেদনে ভুল থাকলে তাকে কেবল ফিরিয়ে না দিয়ে, ভুলটি ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া উচিত। এটিই আন্তরিক সেবার প্রকৃত রূপ। এটিই মানবিকতা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।’।

রাজনীতি নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন থাকা দোষের কিছু নয়। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে কেবল ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এখন জনগণের দলিলের সমান, যা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা প্রয়োজন।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের কর্মস্থল ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখলে ভবিষ্যতে একটি উন্নত পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এছাড়া, পদায়ন বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশও দেন তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকার বা পদ স্থায়ী নয়, তাই দায়িত্ব পালনই মুখ্য হওয়া উচিত। কর্মকর্তাদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যেকোনো স্থানে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচয়। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।’।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চার মাসব্যাপী এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে কৃতিত্বের পরিচয় দেওয়া শীর্ষ ১০ জন কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।