সানিসাইড রেলইয়ার্ডের আবাসন প্রকল্প নিয়ে ট্রাম্প-মামদানির সমঝোতা

পশ্চিম কুইন্সের বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত সানিসাইড রেলইয়ার্ডকে কেন্দ্র করে নতুন নগরী গড়ার একটি বড় পরিকল্পনায় রাজনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রেললাইনের ওপর নতুন অবকাঠামো তৈরি করে আবাসন ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন ঘটানো। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেখানে প্রায় ১২ হাজার সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন ইউনিট নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ইউনিট মিশ্র-আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞে স্কুল, পার্ক এবং আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা প্রায় ৩০ হাজার ইউনিয়নভুক্ত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করবে বলে সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল সহায়তা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে মামদানি পুনরায় প্রকল্পটি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তিনি একই পরিমাণ ফেডারেল অর্থায়নের দাবি জানিয়েছিলেন। বর্তমান বৈঠকের পর আশাবাদ ব্যক্ত করে মামদানি জানান যে, শিগগিরই সিটি হলের আবাসন ও ব্যবস্থাপনা দল এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি নিয়ে নতুন পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।

সানিসাইড রেলইয়ার্ডের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। প্রায় ১৮০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই রেলইয়ার্ডটি ১৯১০ সালে চালুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সেখানে আবাসন, ট্রানজিট টার্মিনাল, কনভেনশন সেন্টার কিংবা স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এমনকি ১৯৮৪ সালেও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে সেখানে একটি ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করেছিলেন। সানিসাইডকে নিজের পরিচিত এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে মামদানি জানান, এই এলাকার উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে নানা আলোচনা ও পরিকল্পনা চলছে, যার সর্বশেষ সংযোজন হলো ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘সানিসাইড ইয়ার্ড মাস্টার প্ল্যান’।”

প্রশাসনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ১২ হাজার ৪৯১টি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বা সংরক্ষণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে সাশ্রয়ী আবাসনের মানোন্নয়ন ও নতুন অবকাঠামো তৈরিতে মোট ২২ বিলিয়ন ডলারের মূলধনী বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। সানিসাইড প্রকল্পটিকে এই বৃহত্তর আবাসন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কমে আসায় এই জনপদ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রশস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পশ্চিম কুইন্সের প্রায় ১৮০ একর সানিসাইড রেলইয়ার্ড কোনো খালি জমি নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি মেলেনি, তবে দুই প্রশাসন আলোচনা আরও এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা ট্রাম্প সোমবার মেয়রের সরকারি বাসভবনে মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজনৈতিক ও নীতিগতভাবে দুই নেতার অবস্থানে বড় পার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কের আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র খোঁজার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ওপর দিয়ে অ্যামট্র্যাক, লং আইল্যান্ড রেল রোড ও নিউ জার্সি ট্রানজিটের ট্রেন চলাচল করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই ডেক কার্যত নতুন জমিতে পরিণত হবে, যেখানে ধাপে ধাপে গড়ে উঠবে আবাসন ও নাগরিক অবকাঠামো।