হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দুইশোর নিচে আটকে দিল বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ওভাল স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন টাইগার পেসার হাসান মাহমুদ। তার বিধ্বংসী বোলিং তোপে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়া ৫৩ ওভারে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে। ১৭ ওভার বল করে ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেছেন ডানহাতি এই পেসার, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার এবং তিনটিই এসেছে দেশের বাইরে।

ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জেক ওয়েদারল্ড ও ট্রাভিস হেড ৪৫ রানের জুটি গড়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে ১১তম ওভারে ওয়েদারল্ডকে (২৩ বলে ৩৭) লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে ব্রেকথ্রু এনে দেন হাসান। এরপর ১৩তম ওভারে ফেরান ট্রাভিস হেডকে (৩৯ বলে ২২)। এর পরপরই ইবাদত হোসেন মাত্র ১ রানে মারনাস লাবুশেনকে সাজঘরে ফেরান। ক্যামেরন গ্রিন ১৩ রানে তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ধরা পড়লে লাঞ্চের আগেই অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।

লাঞ্চের পর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স কারি পঞ্চম উইকেটে ৫৫ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে কারি ১৯ রানে ইবাদতের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন। এরপর বো ওয়েবস্টার ১২ রান করে তাসকিনের শিকার হন এবং অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ১৯ রানে হাসানের বলে লিটনের গ্লাভসবন্দি হন। চা-বিরতির সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৮৩ রান। শেষদিকে একাই লড়াই করা স্টিভেন স্মিথ ৫০তম ওভারে হাসানের চতুর্থ শিকার হন। ১০৯ বলে ৭১ রান করা স্মিথকে ফেরানোর পর নাথান লায়নকে আউট করে হাসানই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়েছে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে।

চার নম্বরে নামা ক্যামেরন গ্রিন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৩ রানে।

লাঞ্চের আগেই ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

তার ছয় উইকেটের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়াকে দুইশোর নিচে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

দিনের শুরুটা মন্দ হয়নি অস্ট্রেলিয়ার জন্য।

কিন্তু এরপরই খেলা ঘুরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।

রিভিউ নিয়ে দুইবার আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ, দুটোই এসেছে হাসানের বলে।

অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কারিকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৫৫ রানের প্রতিরোধ।