হোয়াটসঅ্যাপ বনাম ইনস্টাগ্রাম

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী প্রবীণ প্রজন্ম এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। হিন্দুত্ববাদের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হোয়াটসঅ্যাপ প্রজন্মকে বিজেপি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও, বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন ইনস্টাগ্রাম প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে দলটি হিমশিম খাচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় এই নতুন প্রজন্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকায় রাষ্ট্র এখন পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগের যুগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ প্রজন্ম মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধাভোগী। তারা এই প্ল্যাটফর্মে আসা যেকোনো তথ্য বা ‘ফরোয়ার্ড’ করা বার্তা যাচাই ছাড়াই বিশ্বাস করে এবং তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, বর্তমানের তরুণরা ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে বেশি সক্রিয়, যেখানে প্রবীণদের প্রবেশাধিকার বা নিয়ন্ত্রণ সীমিত। এই তরুণরা পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো থেকে বেরিয়ে আসছে, কারণ তারা সেগুলোকে গোঁড়ামি ও চিন্তা নিয়ন্ত্রণের আস্তানা হিসেবে দেখছে।

প্রজন্মের এই নাটকীয় পরিবর্তনের চিত্র শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েও দৃশ্যমান। যেমন তামিলনাড়ুতে দেখা যাচ্ছে, মা-বাবারা পুরোনো দ্রাবিড় দলগুলোর সমর্থক হলেও সন্তানরা অভিনেতা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও রিপাবলিকান নেত্রী নিকি হ্যালির কট্টর ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করছেন তাঁর নিজের সন্তান। এই ডিজিটাল বিদ্রোহ দমাতে রাষ্ট্র এখন ইডি বা সিবিআইয়ের মতো সংস্থার বদলে সরাসরি বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াটসঅ্যাপে অভ্যস্ত প্রবীণরা যখন সন্তানদের ওপর নিজেদের আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন তরুণরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। এই বিদ্রোহী প্রজন্মকে দমাতে রাষ্ট্রের পেশিশক্তি প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ‘হোয়াটসঅ্যাপ আঙ্কেল’ হিসেবে পরিচিত প্রবীণ প্রজন্ম তাদের সন্তানদের এই পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।