২২ অক্টোবর শিল্পকলায় পদাতিকের ‘পাকে বিপাকে’ নাটকের প্রদর্শনী

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আগামী ২২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে পদাতিক নাট্য সংসদের ৪৩তম প্রযোজনা ‘পাকে বিপাকে’। প্রখ্যাত নাট্যকার মনোজ মিত্রের রচনায় এই নাটকের মূল উপজীব্য গ্রামবাংলার জোতদারি শোষণ ও সাধারণ মানুষের জীবনের নানা টানাপোড়েন।

নাটকটির নির্দেশিত গল্পে উঠে আসে এক নিঝুম রাতের চিত্র। গ্রামের আলপথ ধরে গান গেয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বিষাক্ত সাপের ছোবলে আক্রান্ত হয় হাবলা জনার্দন। তার আর্তচিৎকারে বিলের চারপাশ কেঁপে ওঠে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সে সাহায্য পাওয়ার আশায় দূর থেকে ভেসে আসা লণ্ঠনের আলোর দিকে ছুটে যায়। সেখানে কাঁথা মুড়ি দিয়ে বসে থাকা এক ব্যক্তির কাছে আকুতি জানালেও সে কোনো সাড়া না দিয়ে জনার্দন ইশারায় চলে যেতে বলে।

ক্ষতের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে জনার্দন স্থানীয় জোতদার নবকৃষ্ণ বাবুর নির্মম শোষণের বিবরণ দিতে থাকে। সে জানায়, এই জোতদারের নিপীড়নের কারণেই নিজের তিন বছর ধরে লালন-পালন করা বাছুরটি কসাইয়ের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছে সে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জনার্দন ওই ব্যক্তির কাঁথা ধরে টান দিলে উন্মোচিত হয় খোদ নবকৃষ্ণ বাবুর পরিচয়। নিজের জমিতে বর্গাদারকে ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে ধান লুট করতেই ছদ্মবেশে টহল দিচ্ছিল সে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেখানে উপস্থিত হয় পান্তু দাসের ভাই ডালিম। অনাবাদি জমিতে ফলানো ধান আত্মসাৎ করতে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইকে লেলিয়ে দেয় শোষক নবকৃষ্ণ। তবে নাটকে নতুন মোড় নেয় যখন অন্ধকারের মধ্য থেকে হাজির হয় দুর্বা, যাকে সবাই নবকৃষ্ণের রক্ষিতা বলে চেনে। দুর্বার মূল উদ্দেশ্য ছিল নবকৃষ্ণের বন্দুকটি লুট করে বর্গাদার পান্তুকে সহায়তা করা। নাটকীয় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্পের সমাপ্তি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত জোতদার নবকৃষ্ণ পরাস্ত হয় হাবলা জনার্দনের কাছে। এই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন সাখাওয়াত হোসেন শিমুল, ইমরান খান, শরিফুল ইসলাম ও নাজমা।