নেত্রকোনা সদরে এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিপন মিয়া নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
ময়মনসিংহ র্যাবের সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রিপন মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নেত্রকোনায় ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশের একটি দল কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা মডেল থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিহির রঞ্জন দেব।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী তার বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। এ সময় তার বাবা-মা কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে রিপন মিয়া তাকে জোরপূর্বক ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যান। ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করে নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন মিয়া আত্মগোপনে ছিলেন।
এর আগে, ঘটনাটি নিয়ে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে সালিস বৈঠক বসেছিল। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সালিস বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

