জনপ্রতিনিধিদের সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবং তাদের সামাজিক প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। শুক্রবার (৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে অর্থ সংগ্রহের প্রলোভন এড়াতে মন্ত্রীদের জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের জন্য ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি জনপ্রতিনিধিদের বর্তমান আয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং সব ভাতা মিলিয়ে তিনি পান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, একজন মন্ত্রীর মূল বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং প্রতি মন্ত্রীর ৯২ হাজার টাকা।
নুরুল হক নুর ব্যাখ্যা করেন, এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা, বিয়ে ও খেলাধুলার পুরস্কারসহ নানা সামাজিক সহায়তার জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে আসেন। বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ না থাকলে বর্তমান আয় দিয়ে এসব সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন, যা অনেক সময় দুর্নীতির প্রলোভন তৈরি করে। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাডো বা নিরাপদ গাড়ির সুবিধা থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন, যা মেয়াদ শেষে সরকারি পুলের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে লি কুয়ান ইউ এবং মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ প্রথমে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করেছিলেন এবং পরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড আপগ্রেড করার দাবিটি যৌক্তিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, অর্থমন্ত্রী সংসদে পে-স্কেল নিয়ে কথা বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে তা বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে তিনি নিম্ন আয়ের কর্মীদের মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় তাদের সর্বনিম্ন বেতন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানান। তিনি শ্রম আইন কার্যকর করার ওপর জোর দেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

