না ফেরার দেশে ‘এ ক্রিসমাস স্টোরি’ খ্যাত অভিনেত্রী টেডি মুর

বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কমেডি চলচ্চিত্র ‘এ ক্রিসমাস স্টোরি’র জনপ্রিয় অভিনেত্রী টেডি মুর আর নেই। ৭৯ বছর বয়সে তিনি কানাডার অন্টারিওর হান্টসভিলে নিজের পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৫ আগস্ট তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিনেত্রীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তার মাধ্যমে তার প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন ট্যাবলয়েড টিএমজেড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকেই তিনি ‘মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস’ নামক জটিল স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

১৯৪৭ সালের ১১ই এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা টেডি মুর লন্ডনের রয়্যাল একাডেমি অফ ড্রামাটিক আর্টস থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। ১৯৮৩ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘এ ক্রিসমাস স্টোরি’তে শিশু চরিত্র র‌্যালফি পার্কারের শিক্ষিকা ‘মিস শিল্ডস’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। এই চরিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি একাডেমি অফ কানাডিয়ান সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন থেকে জিনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের সিক্যুয়েল ‘মাই সামার স্টোরি’-তেও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করেন। মজার বিষয় হলো, এই দুটি সিনেমাতেই অভিনয় করা একমাত্র শিল্পী ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য প্রশংসিত চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে কাজ করেছেন। ১৯৭৬ সালে ‘সেকেন্ড উইন্ড’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে ‘কানাডিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেন। এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘মার্ডার বাই ডিক্রি’, ‘দ্য অ্যামেচার’, ‘দ্য কেনেডিস’ এবং ‘গটি’র মতো জনপ্রিয় সব সিনেমা ও সিরিজ। তার মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।