অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তানজিদের সেঞ্চুরিতে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ বাংলাদেশের

ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন পেসার হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর, দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সফরকারীরা। দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ, যা স্বাগতিকদের চেয়ে ১৫৩ রান এগিয়ে। বর্তমানে ৩২ রান নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ এবং ১৬ রান নিয়ে হাসান মাহমুদ অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।

বাংলাদেশের এই শক্ত অবস্থানের মূল কারিগর বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান তিনি; এর আগে ২০০৫ সালে ফতুল্লা টেস্টে শাহরিয়ার নাফীস এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তানজিদ ১৮৮ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১০১ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। লাঞ্চের পর নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সময় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান, যা ডাগআউটে থাকা সতীর্থদের মাঝেও আনন্দের জোয়ার তোলে।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিজেও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। ১২৬ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় তিনি ৮৪ রানের একটি চমৎকার ইনিংস উপহার দেন। এছাড়া মুমিনুল হক ৪৯ রান করে আউট হলেও তানজিদের সঙ্গে তার ১০২ রানের জুটিটি দলের ভিত গড়ে দেয়। মুশফিকুর রহিমও দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ রান যোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন, এছাড়া প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

ম্যাচের প্রথম দিনে হাসান মাহমুদ একাই ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিলেন। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে শেষ হয়ে যায়, যেখানে স্টিভ স্মিথ ৭১ রান করে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়েছিলেন। হাসানের বোলিং ফিগার ছিল ৬/৫৫।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, হাসান মাহমুদ ৬/৫৫)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)।

এতে সফরকারীরা লিড পেল ১৫৩ রানের।

৩২ রান নিয়ে এখনো ক্রিজে টিকে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে শান্ত থামেন ১৯৭ বলে ১০১ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলে।

ডারউইনে প্রথম দিনের দুরন্ত বোলিংয়ের পর বাংলাদেশ দাপট দেখায় ব্যাটিংয়েও।

দ্বিতীয় দিনে এসে ব্যাটিংয়ের সেই ছন্দটা ধরে রেখেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই লিড এনে দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ হাসান তামিমের।

নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর দুই হাত তুলে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন তানজিদ।

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দৃঢ় ডিফেন্সের সমন্বয়েই ইনিংসটি গড়ে তোলেন তিনি।

সেঞ্চুরির আভাস দিয়েও মিস করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

১২৬ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় শান্ত খেলেন ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান

৪৯ রানে জশ হ্যাজেলউডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি।

এই জুটিই বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)।