ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলে পিনেতা সাচেত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি ফ্ল্যাটে শুক্রবার গভীর রাতে এক বাংলাদেশি পরিবার ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় একই পরিবারের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু ও তার বাবা-মা রয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন। নিহতদের মধ্যে পরিবারের কর্তা কামাল হোসেনের পরিচয় পাওয়া গেছে, যার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাটে। ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু এবং তার বাবা-মা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীর আঘাতে ঘটনাস্থলেই কামাল হোসেন, তার স্ত্রী ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। এসময় বড় ছেলে হামলাকারীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আহত অবস্থায় সে কোনোমতে সাহায্যের জন্য ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং কারাবিনিয়েরি বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। সেই সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় বড় ছেলেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ছেলেটি শঙ্কামুক্ত এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ইতালীয় পুলিশের বিশেষ তদন্ত ইউনিট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন।
ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘাতকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। পরিকল্পিত কোনো অপরাধ, ডাকাতি নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা—এই সবকটি দিক সামনে রেখেই তদন্ত চলছে। অপরাধী শনাক্ত করতে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে। ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের সংবেদনশীলতার খাতিরে নিহতদের পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে না, তবে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অগ্রগতির বিষয়ে জানানো হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। রোম পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এটি একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক ঘটনা। অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

