অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, দলের মানসিকতায় আনা একটি বিশেষ পরিবর্তনই এই বড় জয় এনে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর অধিনায়ককে সরাসরি ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন শান্তকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এটিই কি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়? জবাবে তিনি বলেন, ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাটে এটিই এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। শান্তর মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ফলাফল করতে হলে টানা পাঁচ দিনই নিজেদের সেরাটা দিতে হয়, যা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সেশন ধরে খেলার পাশাপাশি নিচের দিকের ব্যাটারদের অবদান থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
দলের এই সাফল্যের পেছনে জোরে বোলারদের ভূমিকা এবং মানসিকতার পরিবর্তনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন শান্ত। তিনি জানান, পাঁচ বছর আগেও টেস্ট খেলার প্রতি পেসারদের আগ্রহ কম ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এখনকার বোলাররা বিশ্বমানের পারফরম্যান্স করতে চায় এবং সিনিয়র ক্রিকেটার যেমন মুশফিকুর রহিম ও মোমিনুল হক তাদের সবসময় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। কেবল স্পিন নয়, পেস বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি জানান।
ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অধিনায়ক তানজিদ হাসানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তানজিদ সাধারণত আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পছন্দ করলেও এই টেস্টে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী ধৈর্যশীল ব্যাটিং করেছে। বলের মান বুঝে শট খেলার যে পরিপক্কতা সে দেখিয়েছে, তা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অধিনায়ক হিসেবে দলের সবার কঠোর পরিশ্রম ও এই ঐতিহাসিক অর্জনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেছেন, ‘খুব আনন্দ হচ্ছে।
লক্ষ্য এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক ধরে রাখা।
স্বপ্ন পূরণের আনন্দে আত্মহারা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হাসান মাহমুদ।
ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত নাজমুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এটাই কি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়?
আগামী দিনে আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে।
ধারাবাহিক ভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।
অধিনায়ক হিসাবে আমার জন্য গর্বের মুহূর্ত।
সকলে যেভাবে খেলেছে, তার জন্য আমি গর্বিত।

