মালদ্বীপে গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত চার জাতির আমন্ত্রণমূলক ফুটবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারির ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের তরুণ স্ট্রাইকার আল-আমিন। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। গত ৭ই জুন মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে ডায়মন্ড জুবিলি ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল টুর্নামেন্টের লীগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। মাঠের লড়াইটি এক পর্যায়ে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। রেফারির একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে মারামারির মাধ্যমে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ঘটনার সময় আল-আমিন মাঠে থাকলেও, গোলদাতা আরেক তরুণ স্ট্রাইকার মিরাজুল ইসলাম ছিলেন সাইড বেঞ্চে।
ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আল-আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিরাজুলকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব। তিনি জানান, ডায়মন্ড জুবিলি ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর মালদ্বীপ বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের ঘটনায় ফিফা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র জাতীয় দলের অফিসিয়াল ম্যাচ এবং আন্তর্জাতিক টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচে কার্যকর থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ম্যাচের যোগ করা সময়ে। মালদ্বীপের পক্ষে রেফারি ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে বাংলাদেশের ফুটবলাররা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সাইড বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড পান মিরাজুল। এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করলে লাল কার্ড দেখানো হয় আল-আমিনকে। তখন নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে আল-আমিন বেশ কয়েকবার রেফারিকে ধাক্কা দেন। ওই গোলমালের পর খেলা পুনরায় চালু হলেও কিছুক্ষণ পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে আবারও মারামারি বেঁধে যায়। পরে কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার আশা ভেস্তে যায়। তিনটি ম্যাচেই ড্র করায় বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ৩। টুর্নামেন্টের ফাইনালে আফগানিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।
জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২২ বছর বয়সী আল-আমিন দু’টি এবং ১৯ বছর বয়সী মিরাজুল ইসলাম তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। বাংলাদেশ বছরে সাধারণত সাত-আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে থাকে, যার ফলে আল-আমিনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যাবে না। এর আগে এই ঘটনায় মিরাজুল ও বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার শাহীন হাসানকে জরিমানা করেছিল ফিফা। বাফুফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে মালদ্বীপের কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এবার ফিফার কাছ থেকে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফিফার এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

