২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধাকে আটক করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রবীণ নারীকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করেছে। ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামসেট্টি নামের এই নারী ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে পরিচিত। নর্থ ক্যারোলিনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত এই নারী দুই মার্কিন নাগরিক নাতি-নাতনির দাদি। গত ১১ আগস্ট আইসিই-এর দপ্তরে নিয়মিত চেক-ইনের জন্য হাজিরা দিতে গেলে তাকে আকস্মিকভাবে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জর্জিয়ার একটি বন্দিশালায় রাখা হয়েছে।

এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় ২০২২ সালে, যখন তিনি অসুস্থ বাবা-মায়ের সেবা করার জন্য ভারতে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি নিজেই মারাত্মকভাবে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে সাত মাস দেশের বাইরে থাকায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) অভিযোগ তোলে যে, তিনি তার স্থায়ী আবাসনের অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ১৮০ দিনের বেশি বিদেশে থাকলে ফেরার সময় অভিবাসন মর্যাদা যাচাই করা হয়।

ভেঙ্কটার পরিবার ও তার আইনি প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন যে, তিনি তার মার্কিন জীবনধারা ত্যাগ করেননি। বরং ভারতে থাকাকালীন নর্থ ক্যারোলিনায় নিজের প্রাথমিক বাসস্থানের জন্য একটি বাড়ি কেনার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো জোরালো ভিত্তি না থাকায় এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায়, গত ১৯ মে (২০২৬) ইমিগ্রেশন বিচারক তার নির্বাসন প্রক্রিয়াটি খারিজ করে দিয়েছিলেন।

বিচারকের রায়ের পরও ১১ আগস্ট শার্লট অফিসে হাজিরা দিতে গেলে তাকে আটক করা হয়। ভেঙ্কটার মেয়ের বান্ধবী ও সহকর্মী জো উইলসন জানিয়েছেন, আইসিই কর্তৃপক্ষ অদ্ভুতভাবে দাবি করছে যে ভেঙ্কটা কোনো গ্রিন কার্ডধারী নন। এই অযৌক্তিক আটকের প্রতিবাদে গত ১৩ আগস্ট তার আইনি দল একটি জরুরি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ পিটিশন দায়ের করে। ফেডারেল আদালত সরকারের পক্ষে রায় দিলেও, আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টির জামিন শুনানির সুযোগ রয়েছে। একজন ইমিগ্রেশন বিচারক এই শুনানিতে তার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবেন। দীর্ঘদিনের বৈধ বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও এবং বিচারকের রায়ের পর এই ধরনের আটক প্রক্রিয়া নিয়ে অভিবাসন মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবার এখন আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে।