যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতেই পুরো কমিউনিটিতে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজনটি আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় পরিসরে এবং জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন’ বা বাইটপো-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। এবারের আয়োজনের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। প্রথমবারের মতো বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকায় তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।
নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তার গানগুলো নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং বিজয়ীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় সব পুরস্কার।
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত ও বিনোদনমূলক পরিবেশনা, যা আগত অতিথিদের দিনভর আনন্দ দেবে।
আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র স্থাপন করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির মানুষ যেন একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন সাজানো হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম ‘আমেরিকা বাংলা’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই মিলনমেলায় মিডিয়া পার্টনারদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি একটি স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হবে।
সব মিলিয়ে, ভার্জিনিয়ার এই মেজবানি আয়োজনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় উৎসবের দিন হতে যাচ্ছে। খাবার, গান এবং পারস্পরিক আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠবে ফোর্ট হান্ট পার্ক। যারা এখনো প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করে এই আয়োজনে শামিল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি। সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে, এখন শুধু অতিথিদের অপেক্ষায় দিন গুনছেন উদ্যোক্তারা।

