সন্তানের সাফল্যের চেয়ে একজন পিতার জীবনে বড় কোনো প্রাপ্তি হতে পারে না। এই সত্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন গাজীপুরের পূবাইল এলাকার কৃতী সন্তান ও গাজীপুর সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক.-এর সভাপতি মো. মোমেন সরকার। প্রবাসের প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তিনি তার তিন সন্তানকে সুশিক্ষিত এবং মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন, যা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস।
মোমেন সরকারের সন্তানদের অর্জনের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তার দুই সন্তান ইএমটি (EMT) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইএমটি বা ইমার্জেন্সি মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের প্রধান কাজ হলো যেকোনো দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা। মানুষের জীবন বাঁচানোর মতো এমন মহৎ পেশায় সন্তানদের নিয়োজিত থাকতে দেখে মোমেন সরকার অত্যন্ত আনন্দিত। এছাড়া তার এক কন্যা হান্টার কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা পরিবারের জন্য বয়ে এনেছে বাড়তি গৌরব।
সন্তানদের এই সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মোমেন সরকার। তিনি বলেন, একজন পিতা হিসেবে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার থাকতে পারে না। তার ভাষ্যমতে, সন্তানরা ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে—এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে? তিনি আরও জানান, সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই তিনি তাদের বড় করেছেন এবং আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেখে তিনি গর্বিত।
প্রবাস জীবনে থেকেও সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং তাদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা মোমেন সরকারের জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তিনি তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তার এই সাফল্য শুধু তার নিজের পরিবারের জন্য নয়, বরং প্রবাসে বসবাসরত অন্যান্য বাংলাদেশি পরিবারের জন্যও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মোমেন সরকারের এই অর্জন প্রমাণ করে যে, সঠিক লালন-পালন এবং শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিলে প্রতিকূল পরিবেশেও সন্তানদের সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

