গোলাপি বাস নিয়ে ট্রল: কড়া জবাব দিলেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান

সম্প্রতি নারীদের জন্য চালু হওয়া বিশেষ ‘গোলাপি বাস’ সেবা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক ট্রল ও কটূক্তি চলছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তিনি মনে করেন, এই বিতর্কের মূল কারণ কোনো বাস, এর রং কিংবা নাম নয়, বরং সমাজের একটি অংশের সংকীর্ণ মানসিকতা। স্বাধীন ও স্বাবলম্বী নারীদের সাফল্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে না পারার যে প্রবণতা সমাজে রয়েছে, সাদিয়া তার স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।

গোলাপি বাস নিয়ে করা বিরূপ মন্তব্যের জবাবে অভিনেত্রী এটিকে ‘কিউট ও পুকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে নারীদের কঠোর পরিশ্রম ও এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, এই পরিবহন সেবার সঙ্গে জড়িত নারী কর্মী ও উদ্যোক্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। সাদিয়া তার অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এসব নেতিবাচক সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।

উল্লেখ্য, কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজতর করা এবং গণপরিবহনে হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে এই গোলাপি বাস সেবা চালু করা হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থায় নারী চালক, হেল্পার এবং নারী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নারী যাত্রীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। যদিও এই উদ্যোগ সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ বাসের রং ও নাম নিয়ে অহেতুক ট্রল ও কটূক্তি শুরু করে।

নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার মতো একটি মহৎ উদ্যোগকে হেয় করার এই প্রবণতার বিরুদ্ধেই সাদিয়া আয়মান নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তার এই সাহসী প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং নারীদের অগ্রযাত্রার পথে সামাজিক মানসিকতার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। তিনি মনে করেন, নারীদের সাফল্যকে সম্মান জানানোর মানসিকতা তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।