‘নতুন কুড়ি’র মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাবরীন সাকা মীম একসময় অভিনয়ের জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তবে ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময়েই তিনি হঠাৎ অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। সম্প্রতি সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুলের উপস্থাপনায় ‘পুতুলঘরে আত্মকথন’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি নিজের ক্যারিয়ার, বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন।
অভিনয় থেকে সরে আসার নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মীম জানান, ২০১২ সালের পর থেকেই নাটকে তাঁর উপস্থিতি অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে অভিনয় ছাড়ার পেছনে মূলত পারিবারিক পছন্দ ও পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তিনি। শ্বশুরবাড়ির ইচ্ছা ও পরিস্থিতির চাপে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি কোনো বিরোধে জড়াননি। যদিও বিষয়টি মেনে নিতে অনেক সময় তাঁর মন খারাপ হতো।
নিজের বিয়ে ও বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে মীম বলেন, অন্য দশটা মেয়ের মতো তিনিও সংসার নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর দুজনই বুঝতে পারেন যে সম্পর্কটি আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এই বিচ্ছেদের জন্য তিনি এককভাবে কাউকে দায়ী করতে চান না। তাঁর মতে, ‘এক হাতে তালি বাজে না’, তাই বিচ্ছেদের দায়ভার উভয়েরই। বিচ্ছেদের আইনি কাগজে সই করার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত কঠিন, যখন তাঁর হাত কাঁপছিল। সেই দুঃসময়ে বাবা-মা ও বোনের অকৃত্রিম সমর্থন তাঁকে মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। এমনকি মানসিকভাবে স্বাভাবিক হতে পরিবারের সবাই মিলে প্রায় আড়াই মাস যুক্তরাষ্ট্রে সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে নতুন করে সংসার শুরু করার মতো মানসিক প্রস্তুতি তাঁর নেই বলে জানান মীম।
অভিনয় ছাড়ার পর ২০১৩ সালে মীম সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে তিনি পেশা থেকে বিরতি নেন এবং পরবর্তীতে চাকরিটি ছেড়ে দেন। দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে থাকলেও দর্শকরা আজও তাঁকে মনে রেখেছেন এবং নাটকে খোঁজেন—এটিকে জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন মীম। অতীতের কোনো ঘটনা নিয়ে আক্ষেপ না রেখে পরিবারের সান্নিধ্য ও মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করেই তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান।

