যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের বোঝা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যে এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্রমবর্ধমান ব্যয়, কর হ্রাস এবং উচ্চমাত্রায় ঋণ গ্রহণের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন।

মার্কিন অর্থ দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মোট ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশ বা ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার এসেছে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ বলছে, এই সরকারি ঋণের প্রায় ২১ ট্রিলিয়ন ডলার দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া। এর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের কাছে পাওনা রয়েছে ৪ দশমিক ৫২৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মূলত সুদের হার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়।

অভ্যন্তরীণ অন্যান্য ঋণদাতাদের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড ৫ দশমিক ১৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আমানতকারী প্রতিষ্ঠান ২ দশমিক ০৮৩ ট্রিলিয়ন ডলার, রাজ্য ও স্থানীয় সরকার ১ দশমিক ৬৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পেনশন ফান্ড ১ দশমিক ১৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জোগান দিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত ঋণদাতাদের কাছে পাওনা রয়েছে ৬ দশমিক ৬৬০ ট্রিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৯৭০ সালে বিদেশি ঋণদাতাদের কাছে দেশটির ঋণের হার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ, যা ২০২৫ সাল নাগাদ ৩২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ সুদ পরিশোধ বাবদ বিদেশে চলে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, জাপান ১ দশমিক ২০৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্য ৮৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং চীন ৬৮৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এছাড়া আরও ৩০টিরও বেশি সংস্থা ও দেশ মার্কিন ঋণের অংশীদার।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঋণ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকলে অতি মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের মতো সংকট তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার অর্থমন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে গত বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্রমবর্ধমান ঋণ বেশ কিছুদিন ধরেই একটি আসন্ন আর্থিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন যে, বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ, বর্ধিত ব্যয় এবং কম করের এক মারাত্মক সংমিশ্রণ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিকে সংকটে ফেলতে পারে।