মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচি বাড়ানোর ঘোষণার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো এই মূল্যবান ধাতুর দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডলারের দরপতন স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, কারণ এতে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে এই ধাতু কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সরকার ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ ঘোষণা দিয়েছিল যে, আগামী প্রান্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে।
ট্রেজারি বিভাগের এই ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ফেডের দুই কর্মকর্তা। ল্যান জানিয়েছেন, স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথ মূলত ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ এবং সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বেকার ভাতার আবেদন কিছুটা কমেছে, যা জুলাই মাসে কর্মসংস্থানে অপ্রত্যাশিত পতন সত্ত্বেও শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে দেখা হয়, তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায় কারণ এটি কোনো সুদ বা আয় দেয় না।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ক্ষেত্রে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার দিকেও বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। শুক্রবার স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৩ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বিশ্ববাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগের সেশনে দাম জুনের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে।

