কানাডার অন্টারিও উপনির্বাচন: স্কারবরো সাউথওয়েস্টে মুখোমুখি দুই বাংলাদেশি প্রার্থী

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসন স্কারবরো সাউথওয়েস্টে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ (পিসি) পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ডা. নূর তরুন এবং অন্টারিও লিবারেল পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আহসানুল হাফিজ।

নির্বাচনী এলাকাটি টরন্টোর একটি বৈচিত্র্যময় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে প্রায় ৮ হাজার ৫০৫ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন, যা ওই এলাকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ভোটারের সমর্থন পাওয়ার ওপর প্রার্থীদের ভাগ্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে। তবে আসনটিতে কেবল এই দুই প্রার্থীই নন, নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ফাতিমা শাবান এবং গ্রিন পার্টির মার্ক বেকারিংও মাঠে রয়েছেন, যা লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

পিসি পার্টির প্রার্থী ডা. নূর তরুন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্কারবরোর কমিউনিটিতে চিকিৎসক ও সমাজসেবক হিসেবে সক্রিয়। গত ১০ জুলাই পিসি পার্টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে এবং প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড তার প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় স্থানীয় ভোটারদের কাছে তিনি পরিচিত মুখ। বর্তমানে তার প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং কমিউনিটির নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।

অন্যদিকে, লিবারেল প্রার্থী আহসানুল হাফিজের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া হাফিজ ২০০২ সালে কানাডায় পাড়ি জমান। ইউনিভার্সিটি অব উইন্ডসর থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী হাফিজ বর্তমানে অন্টারিওজুড়ে ৩০টি ডমিনোজ স্টোরের মালিক। তিনি লিবারেল পার্টি অব কানাডার (অন্টারিও) ভাইস-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি ফেডারেল এমপি নেট এরস্কিন-স্মিথকে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। যদিও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এরস্কিন-স্মিথ আপিল করেছিলেন, তবে লিবারেল পার্টির আপিল কমিটি কোনো অনিয়ম খুঁজে না পাওয়ায় হাফিজের প্রার্থিতা বহাল থাকে।

এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে এনডিপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সাল থেকে ডলি বেগম এই আসনের এমপিপি ছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করে ফেডারেল লিবারেল পার্টির হয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেন এবং ১৩ এপ্রিল জয়ী হন। তার পদত্যাগের ফলে আসনটি শূন্য হয়। বর্তমানে এনডিপি তাদের হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।

লিবারেল পার্টির অন্তর্বর্তী নেতা জন ফ্রেজার স্বীকার করেছেন যে, স্কারবরো সাউথওয়েস্টে তাদের বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে তিনি আহসানুল হাফিজের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণার প্রশংসা করেছেন। একইসাথে এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলসও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও প্রচারণায় দলটির সক্রিয় উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থীর উপস্থিতিতে এবারের উপনির্বাচনটি স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে লড়াই শুধু এই দুই বাংলাদেশির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্কারবরো সাউথওয়েস্ট টরন্টোর একটি বহুজাতিক এলাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই কমিউনিটি থেকে দুই শক্তিশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেষ পর্যন্ত কে বাংলাদেশি ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন আদায় করতে পারেন, তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রেটার টরন্টো এলাকায় তার ছয়টি মেডিকেল ক্লিনিক ও একটি স্পেশালিস্ট সেন্টার রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হওয়ায় প্রাদেশিক সরকারের সাংগঠনিক শক্তিও তার প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার প্রচারণার জীবনী অনুযায়ী, তিনি ইউনিভার্সিটি অব উইন্ডসর থেকে গণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন।